কোয়ার্টার ফাইনালের লড়াইয়ে বেলজিয়ামকে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পৌঁছেছে স্পেন। ২০১০ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠলো সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্প্যানিশরা।
প্রথমে গোলে পেলে এগিয়ে গেলেও ১-১ সমতায় শেষ হয় ম্যাচের প্রথমার্ধ। দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের প্রায় শেষ সময়ের গোলে ২-১ গোলের ব্যবধানে জয় তুলে নেয় স্পেন। ম্যাচের শুরু থেকেই অবশ্য দাপুটে ফুটবল খেরেছে স্পেন।
ম্যাচে পেদ্রির পরিবর্তে শুরুর একাদশে সুযোগ পেয়েছিলেন ফাভিয়ান রুইজ। কোচের সেই আস্থার প্রতিদান দিতে বেশি সময় নেননি তিনি। ৩০তম মিনিটে দলীয় আক্রমণ থেকে স্পেনকে লিড এনে দেন এই মিডফিল্ডার।
ডি-বক্সের খুব কাছ থেকে দানি ওলমোর নেওয়া জোরালো শটটি বেলজিয়ান গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া দুর্দান্তভাবে প্রতিহত করলেও পুরোপুরি ক্লিয়ার করতে পারেননি। রিবাউন্ড থেকে ধেয়ে আসা বল লুফে নিতে কোনো ভুল করেননি রুইজ। তার নেওয়া শটটি বেলজিয়ান ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে সরাসরি জালে জড়িয়ে যায়।
গোল হজম করলেও থেমে যায়নি বেলজিয়াম। ম্যাচে ফিরতে মরিয়া হয়ে উঠে তারা। তার ফলও পায় দলটি। ম্যাচের ৪১তম মিনিটে নিখুঁত এক ফিনিশিংয়ে স্প্যানিশ গোলরক্ষক উনাই সিমনকে পরাস্ত করেন চার্লস ডি কেটেলারা। প্রথমার্ধে আর গোল না হওয়ায় ১-১ সমতায় বিরতিতে যায় দুই দল।
চলতি বিশ্বকাপে স্পেনের জালে অবশ্য এটাই প্রথম গোল। টুর্নামেন্টে এর আগে একটি গোলও হজম করেনি তারা। স্পেনের শক্তিশালী রক্ষণদুর্গ অবশেষে ভাঙতে সফল হয় বেলজিয়াম।
দ্বিতীয়ার্ধের খেলায় গোল খাওয়ার আগেই বড় ধরনের ধাক্কা খায় বেলজিয়াম। চোটের শিকার হয়ে মাঠ ছাড়েন গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া। কোর্তোয়ার পরিবর্তে স্পেনের আক্রমণভাগকে আটকানোর কঠিন দায়িত্ব পান তরুণ গোলরক্ষক সেনে ল্যামেন্স।
আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে চলতে থাকা ম্যাচের ৮৮তম মিনিটে গোল হজম করে বেলজিয়াম। ডি-বক্সে জটলা থেকে বল পেয়ে কোন ভুল করেননি স্প্যানিশ মিডফিল্ডার মিকেল মেরিনো। ঠান্ডা মাথায় নিখুঁত শটে বেলজিয়ামকে হতাশ করেন তিনি।
ম্যাচের বাকি সময় আর কোন গোল না হওয়ায় ২-১ ব্যবধানের জয় নিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে স্পেন। ফাইনালে উঠার পথে সেমি-ফাইনাল বাঁধায় তাদের প্রতিপক্ষ এখন শক্তিশালী ফ্রান্স।
