বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডকে শেষ ১৪ মিনিটে ৩ গোল করে সেমিফাইনালে উঠা আর্জেন্টিনা এবার সেই শেষেই ঝলক দেখালো। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও সাত মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল করে আর্জেন্টিনা পৌঁছে গেল বিশ্বকাপের ফাইনালে।
ফিফা বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলের ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে পা রেখেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। প্রথমে পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্তভাবে ম্যাচে ফিরে জয় তুলে নেয় বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।ফাইনালে এখন স্পেনের বিপক্ষে মাঠে নামবে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা।
ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে ৫৫তম মিনিটে এন্থনি গর্ডন দুর্দান্ত এক গোল করে ইংল্যান্ডকে লিড এনে দেন। এর আগে ম্যাচের প্রথমার্ধ শেষ হয়েছিল গোলশূন্য ব্যবধানে।
পিছিয়ে পড়ে ম্যাচে ফিরতে মরিয়া হয়ে উঠা আর্জেন্টিনা প্রথম সফলতা পায় ৮৫তম মিনিটে। এনজো ফার্নান্দেজের গোলে সমতায় ফেরারর পর ম্যাচের যোগ করা সময়ে (৯০+২) দলের জয়সূচক গোলটি করেন লাউতারো মার্টিনেজ।
ফাইনালে যাওয়ার লড়াইয়ের ম্যাচটিতে প্রথম ১০ মিনিটে তেমন কোনো আক্রমণ তৈরি করতে পারেনি কোনো দল। দুই দলের খেলোয়াড়রা গোলের আক্রমণের চেয়ে মারামারিতে বেশ আগ্রহী ছিল।
প্রথমার্ধের ৫৬ শতাংশ সময় বল দখলে রাখা আর্জেন্টিনা ১২ বার ফাউল করেছে। বিপরীতে ইংল্যান্ড করেছে ৭ বার। তবে দুই দলই একবার করে হলুদ কার্ড দেখে।
দ্বিতীয়ার্ধে গোল পেয়ে এগিয়ে যাওয়ার পর ইংল্যান্ড রক্ষণাত্মক হয়ে পড়ে। এরপর অ্যান্থনি গর্ডনকে তুলে নিয়ে তারা ভুলটা আরও বাড়িয়ে তোলে। ফলে আক্রমণে গতিহীন হয়ে পড়ে ইংল্যান্ড।
বিপরীতে পিছিয়ে পড়া আর্জেন্টিনা একাগ্রতা, তীব্রতা এবং গুণমান নিয়ে ইংল্যান্ড শিবিরে একের পর এক আক্রমণ সাজাতে থাকে। তবে ম্যাচের ৮৪তম মিনিট পর্যন্ত লিড ধরে রাখে ইংলিশরা।
ইংল্যান্ড ৬০ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনালের খুব কাছাকাছি ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার কাছে পরাস্ত হয়েছে। শেষ দিকে মাত্র সাত মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল করে জয় ছিনিয়ে নেয় বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
এই জয়ে এখন ১৯ জুলাই (রবিবার) স্পেনের বিপক্ষে শিরোপা লড়াইয়ে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। ওই ম্যাচের মধ্য দিয়ে পর্দা নামবে ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬ এর আসর।
