ফুটবল কোনো এক ব্যক্তির সম্পত্তি নয়, তিন মহাদেশীয় জোটের চাপে ইনফান্তিনো

স্পোর্টসমেইল২৪ স্পোর্টসমেইল২৪ প্রকাশিত: ০৭:০১ পিএম, ১০ আগস্ট ২০২৬
ফুটবল কোনো এক ব্যক্তির সম্পত্তি নয়, তিন মহাদেশীয় জোটের চাপে ইনফান্তিনো

নতুন করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা, উত্তর ও মধ্য আমেরিকার কনকাকাফ এবং এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) যৌথভাবে খোলা চিঠিতে ঘোষণা করেছে, “ফুটবল কোনো এক ব্যক্তির সম্পত্তি নয়।”

ফুটবলে তিন মহাদেশীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা- ইউরোপ, উত্তর ও মধ্য আমেরিকা এবং এশিয়ার ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর যৌথ চিঠিতে এখন আরও স্পষ্ট হলো যে, ইনফান্তিনোর সমালোচনায় তারা পিছু হটছেন না।

চিঠিতে বলা হয়, “ফুটবলে নেতৃত্ব কোনো ব্যক্তিগত সম্পদ নয়। এটি ক্ষমতা ধরে রাখা অথবা ক্ষমতা নিজের হাতে রাখার দাবি জানানোর বিষয়ও নয়। প্রতারণার মাধ্যমে যখন আস্থা নষ্ট হয়, যখন কোনো ব্যক্তি তাকে যে সম্মিলিত কর্তৃপক্ষ দায়িত্ব দিয়েছে, তার ঊর্ধ্বে নিজেকে স্থান দেন, তখন সেই দায়িত্ব পরিত্যক্ত হয়।”

ইনফান্তিনোর পরিকল্পনার তীব্র সমালোচনা করেছিল এই তিন কনফেডারেশন এবং পরিকল্পনাটি স্থগিত হওয়ার পরও তারা অবস্থান থেকে সরে আসেনি।

তারা বলেছে, “ফিফার সাম্প্রতিক চিঠিতে ভাইস-প্রেসিডেন্ট এবং ২১১টি সদস্য অ্যাসোসিয়েশনকে জানানো হয়েছে যে প্রক্রিয়াটিতে ভুল হয়েছে। এতে বিষয়টিকে যোগাযোগের ব্যর্থতা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। অথচ ফুটবল যা প্রত্যক্ষ করেছে, তা ছিল বিচারবোধের ব্যর্থতা।”

গত সপ্তাহে মরক্কোয় ডাকা জরুরি বৈঠকে ফিফার শীর্ষ পরিচালকদের কাছ থেকে ইনফান্তিনো পূর্ণ সমর্থন পেলেও কনফেডারেশনগুলো বলেছে -এর কোনো অর্থ নেই।

খোলা চিঠিতে তারা বলেছে, “সাম্প্রতিক এই বৈঠকে ফিফা ম্যানেজমেন্ট কমিটির পূর্ণ সদস্যদের নয়, বাছাই করা কয়েকজন সদস্যকে বিদেশে ডেকে পাঠানো হয়েছিল। ফিফার কেন্দ্রস্থল ও কর্মীদের সমস্যা মোকাবিলা করতে নেতৃবৃন্দের জুরিখে যাওয়ার পরিবর্তে এমন পদক্ষেপ শুধু আমাদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে এবং যে ধরনের আচরণ আমাদের এই পরিস্থিতিতে নিয়ে এসেছে, সেটিরই ধারাবাহিকতা প্রকাশ করেছে। এটি কোনওভাবেই একজন অভিভাবকের আচরণ নয়। বরং এমন একজনের আচরণ, যিনি মনে করেন খেলাটি তার কাছেই জবাবদিহি করবে।”

৪৮টি দল নিয়ে আয়োজিত সর্ববৃহৎ বিশ্বকাপের ব্যাপক সাফল্যের পর এর সাফল্যের রেশ উপভোগ করছিলেন ইনফান্তিনো। তবে কনফেডারেশনগুলো চিঠিতে স্পষ্ট করেছে, এই সাফল্য শুধু ইনফান্তিনোর একার কারণে হয়নি।

তারা বলেছে, “গত এক দশকে যে প্রবৃদ্ধি হয়েছে, তা বাস্তব। কিন্তু এই অগ্রগতি কখনোই কোনো একজন ব্যক্তির কাজ ছিল না। এটি ছিল ফিফা, কনফেডারেশন, সদস্য অ্যাসোসিয়েশন এবং খেলাটির জন্য জীবন উৎসর্গ করা হাজারো মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। বর্ধিত পরিসরের টুর্নামেন্ট, ২০৩০ ও ২০৩৪ সালের ফিফা বিশ্বকাপের আয়োজক নির্বাচন এবং সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোর মধ্যে সম্পদের বণ্টন, সবই ছিল সম্মিলিত অর্জন। এগুলো একসঙ্গে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং একসঙ্গে বাস্তবায়ন করা হয়েছে।”

চিঠির শেষাংশে কনফেডারেশনগুলো দাবি করেছে, ইনফান্তিনোর নেতৃত্বে যেখানে জবাবদিহি থাকা উচিত, সেখানে নীরবতা। যেখানে উন্মুক্ততা থাকা উচিত, সেখানে দূরত্ব বিরাজ করছে।

তারা বলে, “এই কারণেই আমরা এই অবস্থান নিয়েছি, হালকাভাবে নয়, একা নয়; বরং একসঙ্গে, যে খেলাটির সেবা করি, তার প্রতি দায়িত্ববোধ থেকে। ফুটবলের শক্তি সবসময়ই তার ঐক্যের মধ্যে নিহিত।”


বিষয়ঃ

শেয়ার করুন :