৩৪তম আন্তর্জাতিক এবং বাংলাদেশের ২৭তম জাতীয় প্রতিবন্ধী দিবস উপলক্ষে বরিশালের ভোলা জেলায় আয়োজন করা হয় ‘ইনক্লুসিভ প্যারা স্পোর্টস টুর্নামেন্ট ২০২৫’। বাংলাদেশ হুইলচেয়ার স্পোর্টস ফাউন্ডেশনের আয়োজনে এবং ভোলা’স চিলড্রেন প্রতিবন্ধী স্কুলের সহযোগিতায় এ টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়।
রোববার (১৪ ডিসেম্বর) অনুষ্ঠিত এ টুর্নামেন্টে প্রায় ৩০ জনের মতো শারীরিক, বুদ্ধি, বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিশু-কিশোররা দাবা, রেস, ব্যাডমিন্টন ও ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে।
দাবা টুর্নামেন্টে অংশ নেন শারীরিক ও বাক-শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিশু-কিশোরেরা। বুদ্ধি প্রতিবন্ধী শিশু-কিশোররা অংশ নেন রেস প্রতিযোগিতায়। বাক-শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিশু-কিশোরেরা ব্যাডমিন্টন ও ক্রিকেট টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করে। অংশগ্রহণকারীদের সক্রিয় উপস্থিতি, আনন্দ ও উদ্দীপনা পুরো আয়োজনকে করে তোলে প্রাণবন্ত ও অনুপ্রেরণাদায়ক।
সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভোলা’স চিলড্রেন প্রতিবন্ধী স্কুলের সভাপতি মুহাম্মদ শওকাত হোসেন, ট্রাস্টি সদস্য মো. আবু তাহের, পরিচালক মো. ইসমাইল, বাংলাদেশ হুইলচেয়ার স্পোর্টস ফাউন্ডেশনের প্রশাসনিক পরিচালক মো. এনামুল হক এবং বরিশাল বিভাগের প্রধান সমন্বয়কারী এবিএম আতাউর রহমান সোহেল, ভোলা জেলা সমন্বয়কারী তানভীর হোসেন।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ হুইলচেয়ার স্পোর্টস ফাউন্ডেশনের সভাপতি নূর নাহিয়ান জানান, এই টুর্নামেন্টের মাধ্যমে প্রতিবন্ধী শিশু-কিশোরদের মধ্যে আত্মবিশ্বাসের বিকাশ এবং সামাজিক অন্তর্ভুক্তির ভিত্তি আরও মজবুত করা হয়েছে। পাশাপাশি এ ধরনের আয়োজন তাদের লুকিয়ে থাকা প্রতিভাকে ফুটিয়ে তুলতে সহায়তা করে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, ভবিষ্যতে এই উদীয়মান ক্রীড়াবিদদেরকে জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণের বিষয়ে তারাও কাজ করবেন।
বাংলাদেশ হুইলচেয়ার স্পোর্টস ফাউন্ডেশনের প্রশাসনিক পরিচালক মো. এনামুল হক বলেন, “খেলাধুলা প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। তিনি এ ধরনের সমন্বিত উদ্যোগ সমাজে প্রতিবন্ধীদের প্রতি সম্মান ও মর্যাদার ধারণাকে আরও দৃঢ় করবে বলে উল্লেখ করেন।”
ভোলা’স চিলড্রেন-এর সভাপতি মুহাম্মদ শওকাত ওসমান বলেন, “ইনক্লুসিভ প্যারা স্পোর্টস টুর্নামেন্ট ২০২৫ আমাদের প্রতিবন্ধী শিশু-কিশোরদের জন্য এক অনন্য সুযোগ সৃষ্টি করেছে। এই আয়োজন তাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস এবং একাত্মতার ভাবনা বৃদ্ধি করেছে। খেলাধুলার মাধ্যমে প্রতিবন্ধীদের ক্ষমতায়ন ও সমাজে তাদের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠায় এ ধরনের উদ্যোগ অপরিহার্য। আমরা ভবিষ্যতেও প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য এমন আরও অনেক সুযোগ ও প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
দাবা টুর্নামেন্ট চ্যাম্পিয়ন হয়েছে মারুফ এবং রানার আপ হয়েছে সমির। এছাড়া ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তানজিলা, রানার আপ হয়েছে সাথি। রেসে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তৌহিদ, ১ম রানার আপ-নুসাইবা এবং ২য় রানার আপ-দ্বীন ইসলাম। ক্রিকেট টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে মেঘনা বাক-শ্রবণ ক্রিকেট দল এবং রানার আপ হয়েছে ইলিশা বাক-শ্রবণ ক্রিকেট দল।
খেলা এবং অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়দের মধ্যে পুরস্কার ও সনদ বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানটিতে স্থানীয় অভিভাবক, স্বেচ্ছাসেবক ও সমাজকর্মীদের উপস্থিতিতে একটি উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়।
