ভাগ্যের সঙ্গে চেষ্টাও প্রয়োজন : মাশরাফি

স্পোর্টস মেইল২৪ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯:১৩ পিএম, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৭
ভাগ্যের সঙ্গে চেষ্টাও প্রয়োজন : মাশরাফি

একজন ক্রিকেট অধিনায়ক, জাতীয় কিংবা কোন ফ্রাঞ্চাইজি। সাফল্য হলো চ্যাম্পিয়ন ট্রফি নিজের করে নেয়া। জাতীয় দলের জার্সি গায়ে কোন ট্রফি নিজের করে নিতে না পারলে অবদান কম নয়, নিজের জীবন বাজী রেখে যিনি দেশের জন্য খেলে যান তার নাম মাশরাফি বিন মর্তুজা। বর্তমানে ওয়ানডে দলে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে পাঁচ আসরের মধ্যে চারটি ট্রফিই যার হাতে উঠেছে।

২০১২ সালে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরসকে চ্যাম্পিয়ন করানো দিয়ে শুরু সাফল্যের সোপানে যাত্রা। এর পরের বছর আবার একই দল, তার নেতৃত্বেই বিপিএল চ্যাম্পিয়ন। ২০১৫ সালে তৃতীয় আসরে আবার ট্রফি হাতে শেষ হাসি মাশরাফির। তবে সেবার আর ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরসের অধিনায়ক হিসেবে নয়। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের অধিনায়ক হিসেবে। সেবার কুমিল্লাকে চ্যাম্পিয়ন করে টানা তিনটি বিপিএল চ্যাম্পিয়ন দলের অধিনায়ক হবার দুর্লভ কৃতিত্ব দেখান মাশরাফি।

এরপর গতবার সাফল্যের দেখা পাননি মাশরাফি। সেবার তার দল কুমিল্লা শেষ চারেও যেতে পারেনি। ওই একটি বছর সাফল্যের দেখা মেলেনি তার। এবার আবার শেষ হাসি মাশরাফির। বিপিএলের পঞ্চম আসরের ট্রফি নড়াইল এক্সপ্রেসের হাতেই।

বিপিএল যেন তারই আসর হয়ে গেছে। প্রেস কনফারেন্সে এক সিনিয়র সাংবাদিকের রসিকতা, ‘আপনি যেভাবে চ্যাম্পিয়ন হচ্ছেন, আপনার দল যেখাবে প্রায় প্রতিবার ট্রফি জিতছে, তাতে করে আগামীতে না আবার এ আসরের নাম ‘মাশরাফি প্রিমিয়ার লিগ’ হয়ে যায়!’

এটা নিছক রসিকতা। তারপরও প্রশ্নের মধ্যে একটা অন্তর্নিহিত তাৎপর্য আছে। সত্যিই তো, বিপিএলে অধিনায়ক মাশরাফি যেভাবে পাঁচবারের মধ্যে চারবার চ্যাম্পিয়ন হলেন, সেটা অনেক বড় কৃতিত্ব অবশ্যই।

অধিনায়ক মাশরাফি আর বিপিএল তাই মিলেমিশে একাকার। ‘দুজনে দুজনার’; কিন্তু এমন আকাশছোঁয়া সাফল্যের রহস্য কী? বিনয়ী মাশরাফির প্রথম ব্যাখ্যা, ‘আগেরবার তো সেমিফাইনাললে উঠিনি। কোনো রহস্য নাই। লাক ফেবার না করলে কিছুই সম্ভব না। আমি ভাগ্যে বিশ্বাস করি। লাক ফেবার করছে তাই পারছি।’

শুধু ভাগ্যই কি বারবার সাফল্যের প্রসূতি? না অন্য কোনো চাবিকাঠিও আছে? - এমন প্রশ্নে মামরাফির উত্তর, ‘অবশ্যেই আছে। প্রচেষ্টাটা খুব বড়। শুধুমাত্র ভাগ্যের ওপর বসে থাকলে চলবে না। আপনি চেষ্টা করলেন না; কিন্তু লাকের ওপর বসে থাকলেন, তাহলেতো আর হবে না। আপনাকে চেষ্টা করতে হবে। কিন্তু দিন শেষে চ্যাম্পিয়ন হতে হলে কিংবা যেকোনো ভালো কিছু করতে হলে ভাগ্যর আনুকূল্য অবশ্যই লাগে। আমি এটাই বিশ্বাস করি। আমরা সেমিফাইনাল থেকে অন্য রকম চেহারায় ছিলাম। কারণ, আমাদের ভেতরে ওই ক্ষুধাটা ছিল। আমরা মাঠে গিয়ে কিছু করতে চাই। আমাদের প্রতিটি ম্যাচই শেষ ম্যাচ ছিল। ওই জিনিসটা সেমিফাইনালের শুরু থেকেই আমাদের মাথায় কাজ করেছে।’

ফাইনাল শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘এ বছর রংপুর রাইডার্সের সাথে চুক্তির পর তিনি প্রথমেই গেইলকে আনার কথা বলেছিলেন। তার মনে হয় টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে এখনো গেইল সেরা। তার দিনে বিশ্বের যেকোনো বোলিং চুরমার হয়ে যায়। যাবেও। তাই মাশরাফি আশায় ছিলেন, গেইল সময়মতো খেলে দিলেই সাফল্য ধরা দেবে। তবে গেইল ইলিমিনেটর রাউন্ড এবং ফাইনালে এত ভালো খেলবেন, ছক্কার বৃষ্টি বইয়ে দিয়ে প্রতিপক্ষ বোলিংকে দুমড়ে-মুচড়ে এভাবে ম্যাচ জেতাবেন- ঠিক এতটা না ভাবলেও তার ধারণা ছিল গেইল জ্বলে উঠলে প্রতিপক্ষর জয়টা কঠিন হয়ে যাবে।’

ফাইনালে টস হারাটাকে সাফল্যের অন্যতম কারণ হিসেবে চিহিত করে মাশরাফি বলেন, ‘আমি সংশয়ে ছিলাম। তাই সব সময় চেয়েছি টস হারতে। টস হারাতে ভালো হয়েছে। টস হারলে আমার ভেতর থেকে একটা ফিলিংস আসে।’

জাতীয় দলের হয়ে আর না খেললেও বিপিএলের মতো আসর সবগুলো ঠিকই খেলবেন। কেন খেলবেন? -মাশরাফি বলেন, ‘টি-টোয়েন্টি খেলব না কেন। সত্যি করে বলছি, আমি এখানে খেললে আর্থিকভাবেও লাভবান হচ্ছি। আমারও তো পরিবার আছে। বিপিএল খেলার সামর্থ্য আমার আছে। বিপিএল ও ঢাকা লিগ অবশ্যই খেলব। আর পাশাপাশি এখন একটাই ফরম্যাট খেলছি। আমার জন্য অনুশীলন খুব গুরুত্বপূর্ণ। আর ম্যাচ অনুশীলন যদি না করতে পারি তাহলে একেবারে খেলাটা কঠিন। আমি যতটুকু সুযোগ পাই সেটা আমার জন্য ভালো। দক্ষিণ আফ্রিকা যাওয়ার আগে দুটি চারদিনের ম্যাচ খেলেছি। আমি চেষ্টা করেছি আমার সেরাটা দেয় খেলার।’


শেয়ার করুন :


আরও পড়ুন

আবারও মাশরাফি, বিপিএল চ্যাম্পিয়ন রংপুর

আবারও মাশরাফি, বিপিএল চ্যাম্পিয়ন রংপুর

গেইল-ম্যাশ ঢাকাকে করলো শেষ

গেইল-ম্যাশ ঢাকাকে করলো শেষ

সমীকরণকে ‌‘বৃদ্ধাঙ্গুলি’ দেখিয়ে ফাইনালে মাশরাফি

সমীকরণকে ‌‘বৃদ্ধাঙ্গুলি’ দেখিয়ে ফাইনালে মাশরাফি

উইকেট নিয়ে সমালোচনা : তামিমকে শোকজ

উইকেট নিয়ে সমালোচনা : তামিমকে শোকজ