সমীকরণকে ‌‘বৃদ্ধাঙ্গুলি’ দেখিয়ে ফাইনালে মাশরাফি

স্পোর্টস মেইল২৪ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯:১৬ এএম, ১২ ডিসেম্বর ২০১৭
সমীকরণকে ‌‘বৃদ্ধাঙ্গুলি’ দেখিয়ে ফাইনালে মাশরাফি

বৃষ্টি, খেলা বন্ধ, একদিনের জন্য স্থগিত। অতপর ২৪ ঘণ্টার পর আজ (সোমবার) কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সকে হারিয়ে বিপিএলের পঞ্চম আসরের ফাইনালে উঠলো মাশরাফির বিন মর্তুজার রংপুর রাইডার্স। আর এ জয় সকল প্রকার সমীকরণকে ‘বৃদ্ধাঙ্গুলি’ দেখালো রংপুর।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের জনসন চার্লসের অনবদ্য সেঞ্চুরি ও বোলারদের দুর্দান্ত বোলিং নৈপুণ্যে বিপিএলের দ্বিতীয় কোয়ালিফাইয়ার ম্যাচে কুমিল্লাকে ৩৬ রানে হারালো রংপুর রাইডার্স। আগামীকাল (মঙ্গলবার) টুর্নামেন্টের ফাইনালে ঢাকা ডায়নামাইটসের মুখোমুখি হবে রংপুর। ফাইনাল ম্যাচটি শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টায়।

এর আগে গতকাল (রোববার) মিরপুর শেরে বাংলা টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং বেছে নেয় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। ব্যাটিংয়ে নেমে ৭ ওভারে ১ উইকেটে ৫৫ রান তুলে রংপুর। এরপরই বৃষ্টির কারণে খেলা বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে রাত ৮টা ৫৪ মিনিটে বৃষ্টি থেমে গেলেও মাঠ পরিচর্যার পরও মাঠে খেলা গড়ায়নি। পরবর্তীতে খেলার বাকি অংশ আজকে অনুষ্ঠিত হওয়ার ঘোষণা দেয় বিপিএল কর্তৃপক্ষ। যার প্রেক্ষিতে সন্ধ্যা ৬টায় ম্যাচের অষ্টম ওভার থেকে খেলা শুরু করে রংপুর ও কুমিল্লা।

গতকাল ব্যাটিংয়ে নেমে উদ্বোধণী জুটিতে ২৫ বলে ২৭ রান তুলেছিলেন রংপুরের দুই ওপেনার ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিস গেইল ও জনসন চার্লস। মাত্র ৩ রান করে গেইল ফিরলেও নিউজিল্যান্ডের ব্রেন্ডন ম্যাককালামকে নিয়ে ইনিংস মেরামত করেন চার্লস। বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ হবার আগে ৭ ওভার পর্যন্ত ব্যাট করেন তারা। এ সময় ৪টি করে চার ও ছক্কায় মাত্র ২৬ বলে অপরাজিত ৪৬ রান করেন চার্লস। ৪ রানে অপরাজিত থাকেন ম্যাককালাম।

চার্লস ৪৬ ও ম্যাককালাম ৪ রান নিয়ে আজ খেলা শুরু করেন। ব্যাট হাতে ক্রিজে গিয়ে দেখেশুনে খেলা শুরু করেন দুজনেই। আজ দিনের প্রথম দুই অর্থাৎ অষ্টম ও নবম ওভারে যথাক্রমে ৪ ও ২ রান নেন তারা। দশম ওভারে দু’জনে দু’টি ছক্কা মারলেও ১১ ও ১২তম ওভারে যথাক্রমে ৩ ও ৬ রান নেন চার্লস ও ম্যাককালাম।

তবে ১৩তম ওভার থেকে শুরু হয় চার্লস ও ম্যাককালামের বিধ্বংসী রুপ। ঐ ওভারে কুমিল্লার মিডিয়াম পেসার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনকে পরপর দু’টি ছক্কা মারেন চার্লস। পরের ওভারে জিম্বাবুয়ের গ্রায়েম ক্রেমারকে পরপর দু’টি ছক্কা মারেন ম্যাককালামও। এতে বড় সংগ্রহের পথ পেয়ে যায় রংপুর। ১৫ ওভার শেষে দলীয় স্কোর ১ উইকেটে ১২৮ রানে নিয়ে যান এ জুটি। এসময় চার্লস ৫২ বলে ৮০ ও ম্যাককালাম ২৮ বলে ৪১ রানে অপরাজিত ছিলেন।

এরপর ১৯তম ওভারের শেষ বলে বিচ্ছিন্ন হন চার্লস ও ম্যাককালাম। ১৫ থেকে ১৯তম ওভারের ২৪ বলে ম্যাককালাম ৫টি ছক্কা ও ১টি চার মারেন। এরমধ্যে কুমিল্লার আল-আমিন হোসেনের এক ওভারে ৩টি ছক্কাও হাকান ম্যাক। আর চার্লসের মারেন ২টি চার।

১৯তম ওভারে শেষ বলে কুমিল্লার পেসার হাসান আলীর স্লোয়ারে বোল্ড হন ম্যাককালাম। ৪৬ বলে মাত্র ১টি চার ও ৯টি ছক্কায় ৭৮ রান করেন তিনি চার্লস-ম্যাককালাম জুটিতে ৮৯ বলে ১৫১ রান যোগ করেন।

ম্যাককালাম যখন ফিরে যান তখন চার্লসের রান ৫৮ বলে ৯২ রান। ওভারে সেঞ্চুরির জন্য ৮ রান প্রয়োজন পড়ে চার্লসের। সাইফউদ্দিনের প্রথম ও পঞ্চম ডেলিভারিতে এবং নিজের ৬২তম বলে বাউন্ডারি হাকিঁয়ে এবারের বিপিএলে দ্বিতীয় সেঞ্চুরি তুলে নেন চার্লস। টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে এটিই প্রথম সেঞ্চুরি চার্লসের। ইনিংসের শেষ বলেও বাউন্ডারি মেরে শেষ পর্যন্ত ৯টি চার ও ৭টি ছক্কায় ৬৩ বলে অপরাজিত ১০৫ রান করেন চার্লস। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৩ উইকেটে ১৯২ রানের সংগ্রহ পায় রংপুর। কুমিল্লার মেহেদি হাসান, হাসান আলী ও সাইফউদ্দিন ১টি করে উইকেট নেন।

ফাইনালের টিকিট পেতে ১৯৩ রানের টার্গেট পায় কুমিল্লা। সেই লক্ষ্যে উড়ন্ত সূচনা করেন কুুমিল্লা দুই ওপেনার অধিনায়ক তামিম ইকবাল ও উইকেটরক্ষক লিটন কুমার দাস। অবশ্য তাদের শুভ সুচনার পিছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন রংপুরের ফিল্ডাররাও। ক্যাচ ও ফিল্ডিং মিসের মহড়ায় মেতে উঠেন তারা। যাতে করে ক্যাচ ও রান আউটের ফাঁদে পড়া থেকে কয়েক দফায় বেচে যান তামিম ও লিটন। এই সুযোগে ৪ ওভারে স্কোরবোর্ডে ৪৫ রান তুলে ফেলে কুমিল্লা।

এমন অবস্থায় রংপুরের মুখে হাসি ফোটান অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। নিজের দ্বিতীয় ও ইনিংসের পঞ্চম ওভারের পঞ্চম বলে তামিমকে ফিরিয়ে দেন মাশরাফি। উইকেট ছেড়ে খেলতে গিয়ে আকাশে বল তুলে দেন তামিম। মিড-অফে সেই ক্যাচ তালুবন্দি করেন সোহাগ গাজী। ৬টি চার ও ১টি ছক্কায় ১৯ বলে ৩৬ রান করেন তামিম।

অধিনায়কের বিদায়ে উইকেটে যাবার সুযোগ পেয়েছিলেন ইমরুল কায়েস। ২ বলের বেশি মোকাবেলা করতে পারেননি তিনি। মাথা গরম করে উইকেট ছেড়ে খেলতে গিয়ে সোহাগ গাজীর বলে স্টাম্পড হয়ে শূন্য হাতে ফিরেন কায়েস।

এরপর লিটনের সাথে জুটি বাধেন পাকিস্তানের শোয়েব মালিক। এই জুটি চেষ্টা করেছিলেন রানের গতি বাড়াতে। কিন্তু দশম ওভারের দ্বিতীয় বলে এ জুটিকে বিচ্ছিন্ন করে দেন বাঁ-হাতি স্পিনার নাজমুল ইসলাম অপু। ১০ রানে থাকা মালিককে শিকার করেন তিনি।

দলীয় ৭৫ রানে মালিক ফিরে যাবার পরও কুমিল্লার রান এগোচ্ছিলো লিটনের ব্যাটে চড়ে। কিন্তু তার সেই লড়াই থেমে যায় দলের স্কোর তিন অংকে পৌছানোর আগেই। উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ৩৯ রানে থামেন লিটন। ২৮ বল মোকাবেলায় ৩টি চার ও ২টি ছক্কা মারেন তিনি।

দলীয় ৯৬ রানে চতুর্থ উইকেট হারানোর পর কুমিল্লার আশা-ভরসা হিসেবে ছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের মারলন স্যামুয়েলস ও ইংল্যান্ডের জশ বাটলার। কিন্তু রংপুরের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত ও বুদ্ধিদীপ্ত বোলিং-এর কারনে রানের চাকা দ্রুত ঘুড়াতে পারেননি তারা। পঞ্চম উইকেটে ৩০ বলে ৪১ রান যোগ করেন তারা। তবে আস্কিং রান রেটের সঙ্গে তাল মেলাতে পারেননি তারা।

শেষ ১৮ বলে কুমিল্লার প্রয়োজন ছিল ৫৬ রান। ১৮তম ওভারে বল হাতে নিয়ে প্রথম ও শেষ বলে বাটলার ও স্যামুয়েলসকে তুলে নিয়ে রংপুরের ফাইনাল নিশ্চিত করে ফেলেন ইংল্যান্ডের রবি বোপারা। কারণ পরের দিকে টেল-এন্ডারে আর কোন ব্যাটসম্যানই কুমিল্লার প্রয়োজন মেটাতে পারেননি। আর ম্যাচের শেষ ওভারে ৩ উইকেট নিয়ে কুমিল্লাকে ২০ ওভারে ১৫৬ রানেই গুটিয়ে দেন রুবেল হোসেন। তাই রংপুরের রুবেল ৩টি এবং ইসুরু উদানা ও বোপারা ২টি করে উইকেট নেন। ম্যাচ সেরা হয়েছেন চার্লস।

সংক্ষিপ্ত স্কোর :
রংপুর রাইডার্স : ১৯২/৩, ২০ ওভার (চার্লস ১০৫*, ম্যাককালাম ৭৮, হাসান ১/২৩)।
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স : ১৫৬/১০, ২০ ওভার (লিটন ৩৯, তামিম ৩৬, রুবেল ৩/৩৪)।
ফল : রংপুর রাইডার্স ৩৬ রানে জয়ী।


শেয়ার করুন :


আরও পড়ুন

টেস্টেও অধিনায়ক সাকিব

টেস্টেও অধিনায়ক সাকিব

টি-টুয়েন্টিতে ফিরলেন মালিঙ্গা-মেন্ডিস

টি-টুয়েন্টিতে ফিরলেন মালিঙ্গা-মেন্ডিস

বিপিএলে চার-ছক্কা নতুন রেকর্ড

বিপিএলে চার-ছক্কা নতুন রেকর্ড

ছক্কা বৃষ্টি ঝড়ালো গেইল

ছক্কা বৃষ্টি ঝড়ালো গেইল