চারদিকে কান্নার রোল, ঘুরে দাঁড়াতে পারবে অস্ট্রেলিয়া?

স্পোর্টস মেইল২৪ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০১:১৯ এএম, ৩০ মার্চ ২০১৮
চারদিকে কান্নার রোল, ঘুরে দাঁড়াতে পারবে অস্ট্রেলিয়া?

বল টেম্পারিংয়ের দায়ে ‘নোংরামি’ শব্দটি গায়ে মেখেছে বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম শীর্ষ দল অস্ট্রেলিয়া। দেশটির ক্রিকেট যে অনেকটা তছনছ হয়ে গেছে তা সহজেই বোঝা যায়। চার দিক শুধু কান্না। স্মিথ, ওয়ার্নার, ব্যানক্রফট থেকে শুরু করে আজ চোখের জল ফেললেন অস্ট্রেলিয়ার দলে প্রধান কোচ ড্যারেন লেহম্যানও।

নিরবতা ভেঙে আজ সংবাদ মাধ্যমে কথা বলেছেন বল পেম্পারিংয়ের অভিযোগে অভিযুক্ত তিনজনই। সদ্য সাবেক হওয়া অধিনায়ক স্টিভ স্মিথ সব দোষ নিজে বলে স্বীকার করে নিয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। সদ্য সাবেক হওয়া সহ-অধিনায়ক ওয়ার্নারও আর তার নিরবতা ভেঙেছেন। তিনিও নিজেকে দোষ স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছেন। ব্যানক্রফট ক্ষমা চেয়েছেন অস্ট্রেলিয়া ও ক্রিকেট ভক্তদের কাছে।

এদিকে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট বোর্ড থেকে আস্বস্ত করা হলেও বৃহস্পতিবার সঙবাদ সম্মেলনে এসে হঠাৎ সরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন কোচ ড্যারেন লেহম্যান। সংবাদ সম্মেলনে এস সেও চোখের জল ফেলেন। এ অবস্থায় আজ শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ ও শেষ টেস্ট।

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে চলমান টেস্ট সিরিজ নিয়ে যতটা না চিন্তিত, তার চেয়ে বেশি অস্ট্রেলিয়া চিন্তিত গা থেকে ‘নোংরামি’ শব্দটি মুছে ফেলতে। ফলে শুক্রবার থেকে জোহানেসবার্গে শুরু হওয়া সিরিজের শেষ টেস্টে নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসে নতুন অধ্যায় শুরুর পণ অসিদের। বল টেম্পারিং কেলেংকারি ভুলে নতুনভাবে পথ চলা শুরু করতে চায় অস্ট্রেলিয়া।

দাপট দেখিয়ে ১১৮ রানের ব্যবধানে সিরিজের প্রথম টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারায় অস্ট্রেলিয়া। এরপর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দাপট দেখায় প্রোটিয়ারা। পরের দুই টেস্ট যথাক্রমে ৬ উইকেটে ও ৩২২ রানে জিতে নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা। কেপটাউনে সিরিজে তৃতীয় টেস্ট জয়ের জন্য ভিন্ন পন্থা অবলম্বন করে অস্ট্রেলিয়া। ম্যাচ যখন হাতে মুঠো থেকে বেরিয়ে যায়, ওই অবস্থায় বল টেম্পারিংয়ের মত ‘নোংরামি’র পথ বেছে নেয় অসিরা।

আইসিসির শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়েছে অসি অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ ও ব্যানক্রফট। তবে ওখানেই শাস্তির পালা শেষ হয়নি। স্বয়ং ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ) স্মিথ-ওয়ার্নারকে এক বছরের জন্য এবং ব্যানক্রফটকে ৯ মাসের জন্য নিষিদ্ধ করেছে। ফলে সিরিজ বাচাঁনোর ম্যাচে তাদের পরিবর্তে নতুন তিন জনকে দলে নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া।

সিরিজ বাচাঁনোর জন্য স্মিথ-ওয়ার্নার ও ব্যানক্রফটের পরিবর্তে দলে এসেছেন ম্যাট রেনশ, জো বার্নস ও গ্রেন ম্যাক্সওয়েল। ২০১৬ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট অভিষেকের পর এখন পর্যন্ত মাত্র ১০টি টেস্ট খেলেছেন রেনশ। গেল সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ সফরে নিজেকে মেলে ধরতে না পারায় দল থেকে বাদ পড়েন রেনশ। তার জায়গায় দলে সুযোগ পান বল টেম্পারিংয়ের দায়ে নিষিদ্ধ হওয়া ব্যানক্রফট।

এছাড়া স্মিথ না থাকায় চতুর্থ টেস্টে অস্ট্রেলিয়া দলের নেতৃত্ব দেবেন উইকেটরক্ষক টিম পাইন। অস্ট্রেলিয়ার ৪৬তম অধিনায়ক হিসেবে অভিষেক হবে তার। অধিনায়ক হিসেবে নিজের অভিষেক টেস্ট নিয়ে মোটেও চিন্তিত নন পাইন। এমনকি দলের পারফরমেন্স নিয়ে চিন্তিত নন। তার মতে, ‘বল টেম্পারিংয়ের কেলেঙ্কারিকে পেছনে ফেলে বিশ্ব কিভাবে তাদের আচরণকে পর্যবেক্ষণ করে সেটাই এখন মূল বিষয়। ইতিবাচক দিকটি হচ্ছে ছেলেরা দেশের হয়ে খেলার একটা সুযোগ পাচ্ছে।’

অস্ট্রেলিয়াকে যেখানে নিজেদের সম্মান রক্ষায় চিন্তায় ব্যস্ত সেখানে দীর্ঘদিন পর প্রতিপক্ষের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের নেশায় মগ্ন দক্ষিণ আফ্রিকা। ১৯৭০ সালের দেশের মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ জিততে পারেনি প্রোটিয়ারা। এবারই সেই সুযোগ।

দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক ফাফ ডু-প্লেসিস বলেছেন, আমাদের চিন্তা-ভাবনা জুড়ে রয়েছে সিরিজ। সিরিজ জিততেই লড়াই শুরু করেছিলাম আমরা। আমাদের লক্ষ্য সিরিজ জয়। ড্র করলেই সিরিজ জিততে পারব। কিন্তু আমরা জয় ছাড়া অন্য কিছু ভাবছি না।

দক্ষিণ আফ্রিকা দল
ফাফ ডু-প্লেসিস (অধিনায়ক), হাশিম আমলা, টেম্বা বাভুমা, থিউনিস ডি ব্রুইয়ান, কুইন্টন ডি কক (উইকেটরক্ষক), এবি ডি ভিলিয়ার্স, ডিন এলগার, হেনরিখ ক্লাসেন, কেশব মহারাজ, আইডেন মার্করাম, মরনে মরকেল, ক্রিস মরিস, উইলেম মুল্ডার, লুঙ্গি এনগিডি, ডুয়াই ওলিভার, ভারনন ফিলান্ডার ও কাগিসো রাবাদা।

অস্ট্রেলিয়া দল
টিম পাইন (অধিনায়ক ও উইকেটরক্ষক), ম্যাট রেনশ, জো বার্নস, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, প্যাট কামিন্স, পিটার হ্যান্ডসকম্ব, জশ হ্যাজেলউড, জন হল্যান্ড, উসমান খাজা, নাথান লিঁও, মিচেল মার্শ, শন মার্শ, জে রিচার্ডসন, চাঁদ শ্রেয়াস ও মিচেল স্টার্ক।


শেয়ার করুন :


আরও পড়ুন

পদত্যাগই করলেন লেহম্যান

পদত্যাগই করলেন লেহম্যান

কাঁদলেন স্মিথ, ক্ষমাও চাইলেন

কাঁদলেন স্মিথ, ক্ষমাও চাইলেন

স্মিথ-ওয়ার্নার-ব্যানক্রফটের ফ্যাক্টবক্স কতটুকু জানেন?

স্মিথ-ওয়ার্নার-ব্যানক্রফটের ফ্যাক্টবক্স কতটুকু জানেন?

ক্ষমা চাইলেন ওয়ার্নার

ক্ষমা চাইলেন ওয়ার্নার