লিওনেল মেসির জোড়া গোলে অরল্যান্ডো সিটিকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে লিগস কাপের ফাইনালে উঠেছে ইন্টার মিয়ামি। বুধবার রাতে ম্যাচের শেষ দিকে গোল দু’টি করেন আর্জেন্টাইন সুপারস্টার।
ডান উরুর চোটের কারণে টানা দুটি ম্যাচ মিস করার পর মাঠে নেমে ৭৭তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে সমতা ফেরান মেসি (১-১)। এরপর ৮৮তম মিনিটে জর্দি আলবার সঙ্গে দুর্দান্ত সমন্বয়ে গোল করে মিয়ামিকে এগিয়ে দেন (২-১)।
ম্যাচের ইনজুরি সময়ে তৃতীয় গোলটি করেন টেলাস্কো সেগোভিয়া। ফলে ৩-১ গোলের জয় নিয়ে ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করে নেয় গত আসরের চ্যাম্পিয়ন ইন্টার মিয়ামি।
২০২৩ সালে মেসির এমএলএস অভিষেক মৌসুমেই লিগস কাপ জিতেছিল ইন্টার মিয়ামি। এবার আবারও শিরোপার জন্য লড়বে তারা।
ফাইনালে প্রতিপক্ষ লস অ্যাঞ্জেলেস গ্যালাক্সি অথবা সিয়াটল সাউন্ডার্স। আর অরল্যান্ডো খেলবে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে। প্রতিযোগিতার সেরা তিন দলই জায়গা পাবে ২০২৬ সালের কনকাকাফ চ্যাম্পিয়নস কাপে।
ম্যাচের প্রথমার্ধ ছিল রোমাঞ্চকর। যোগ করা সময়ে গোল করে মিয়ামির চেজ স্টেডিয়ামে দর্শকদের স্তব্ধ করে দেন ক্রোয়েশিয়ার মার্কো পাশালিচ। লুইস মুরিয়েলের পাস ক্লিয়ার করতে গিয়ে বিপদ ডেকে আনেন ম্যাক্সিমিলিয়ানো ফ্যালকন, যার ভুলে বল পেয়ে বাম পায়ের শটে জালে জড়ান পাশালিচ। মিয়ামির খেলোয়াড়রা দাবি তুললেও ভিএআর গোল নিশ্চিত করে।
প্রথমার্ধে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয়ার্ধেও মিয়ামিকে চাপে রাখে অরল্যান্ডো। লুইস সুয়ারেজ একবার জোরালো শটে গোলরক্ষক পেদ্রো গায়েসেকে পরীক্ষা নেন। অন্যদিকে, মেসি দু’বার গোলের কাছাকাছি গেলেও অরল্যান্ডোর ডিফেন্ডারদের ভিড়ে আটকে যান।
কোয়ার্টার ফাইনালে টাইগ্রেস উএএনএল-এর বিপক্ষে লাল কার্ড পাওয়ায় এ দিন মাঠের বদলে গ্যালারি থেকে খেলা দেখেন মায়ামির কোচ হাভিয়ার মাশচেরানো।
ম্যাচের ৫৯তম মিনিটে অরল্যান্ডো একটি পেনাল্টি দাবি করেছিল সার্জিও বুসকেতসের ফাউলে। তবে গুয়াতেমালান রেফারি ওয়াল্টার লোপেজ তা নাকচ করে দেন। সেখান থেকেই পাল্টে যায় ম্যাচের গতি।
৭৪তম মিনিটে বদলি খেলোয়াড় তাদের আলেন্দেকে বক্সে ফাউল করেন ডেভিড ব্রেকালো। জার্সি টানার কারণে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন তিনি। পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে সমতায় ফেরান মেসি।
সমতায় ফেরার ৮ মিনিট পর (৮৮তম) দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধান বাড়ান আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী মেসি। শেষ দিকে আর কোনো গোল না হলে ৩-১ ব্যবধানের জয় নিয়েই ফাইনালে যায় ইন্টার মিয়ামি।
চলতি মৌসুমেই অরল্যান্ডো দুইবার মুখোমুখি হয়ে মিয়ামিকে ৭-১ গোলের ব্যবধানে (এক ম্যাচে ৪-১) হারিয়েছিল। তবে এবার প্রতিশোধ নিল মেসির মিয়ামি, আর সেটিই তাদের ফাইনালে তুলে দিল।