পিছিয়ে পড়েও গোদাগাড়ী উপজেলা ফুটবল দলের বিপক্ষে দারুণ এক জয় তুলে নিয়েছে গতবারের চ্যাম্পিয়ন মোহনপুর উপজেলা ফুটবল দল। রাজশাহীর মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়ামে জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে ৫-২ গোলের ব্যবধানে জয় তুলে নেয় তারা।
সোমবার (২৪ আগস্ট) টুর্নামেন্টের তৃতীয় দিনের ম্যাচ কেবলই শুরু হয়েছে। সময় গড়িয়েছে মাত্র মিনিট চারেক। কেউ কোনকিছু বুঝে ওঠার আগেই আচমকা গোল করে গোদাগাড়ী উপজেলা ফুটবল দলকে এগিয়ে দেন আলিম। তাও আবার গতবারের চ্যাম্পিয়ন মোহনপুর উপজেলা ফুটবল দলের বিপক্ষে। এ রকম একটা গোল করে গোদাগাড়ীর খেলোয়াড়রা যখন আনন্দ উল্লাসে মাতোয়ারা তখন মোহনপুর শিবিরে হতাশার ছায়া।
দুই নাইজেরিয়ান খেলোয়াড়কে দলভুক্ত করে গড়া মোহনপুরের একি অবস্থা! কিছুতেই যেন মেনে নিতে পারছিলেন না মোহনপুরের ফুটবলাররা। সমর্থকদের মাঝেও নেমে আসে হতাশা।
ধীরে ধীরে সুসংগঠিত হতে থাকে তারা। বাড়াতে থাকে আক্রমণের ধারা। গোলের সুযোগ পেয়েও হাতছাড়া করেন তারা। অবশেষে কাঙ্ক্ষিত সেই গোলের দেখা পায় মোহনপুর।
ম্যাচের ৪২তম মিনিটে দলের নাইজেরিয়ান খেলোয়াড় ইদ্রিসের পা থেকেই আসে কাঙ্ক্ষিত সেই গোল। ম্যাচে ১-১ গোলে সমতা ফেরায় উভয় দলই আক্রমণ পাল্টা-আক্রমণ করে খেলে। শুরু হয় আর একটি গোল করে এগিয়ে যাওয়ার প্রতিযোগিতা। প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যায় প্রথমে গোল হজম করা মোহনপুরই।
মোহনপুরের বাদল লিড এনে দেন। দল এগিয়ে যায় ২-১ গোলে। ম্যাচের এ অবস্থায় প্রথমার্ধের খেলা শেষ হয়। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে গোদাগাড়ীর সুমন গোল করলে ম্যাচে আনারও সমতা ফিরে আসে। এ অবস্থায় ম্যাচে চরম উত্তেজনা বিরাজ করে।
উত্তেজনাকর ম্যাচে মাঝে মাঝেই রেফারির সঙ্গে তর্ক-বিতর্ক হয় উভয় দলের খেলোয়াড়দের। তবে ম্যাচের রেফারি আক্তার হোসেন দক্ষতার সাথে খেলা পরিচালনা করেন। উভয় দলই আক্রমণ পাল্টা-আক্রমণের মধ্য দিয়ে খেলতে থাকে। এ পর্যায়ে মোহনপুরের বাদল আরও একটি গোল করলে মোহনপুর ৩-২ গোলে এগিয়ে যায়।
এগিয়ে গিয়ে মোহনপুরের একের পর আক্রমণে গোদাগাড়ীর রক্ষণভাগ তছনছ হয়ে যায়। মোহনপুরের হৃদয় ও মুমিন আরও একটি করে গোল করলে ব্যবধান বেড়ে দাঁড়ায় ৫-২।
সাত গোলের এই ম্যাচ উপভোগ করতে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়ামে বিপুল সংখ্যক দর্শকের সমাগম ঘটে। রেফারি আক্তার হোসেনকে সহযোগিতা করেন আব্দুল খালেক ও সুজন রানা। এছাড়া চতুর্থ রেফারির দায়িত্ব পালন করেন রেজা।
মো. ফয়সাল আলম, রাজশাহী/আরএস
