জিম্বাবুয়ের নারী দলের সাবেক ক্রিকেটার ও আন্তর্জাতিক আম্পায়ার সারাহ ডাম্বানেভানা মারা গেছেন। মাত্র ৩৬ বছর বয়সে সারাহ ডাম্বানেভানার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)।
ফাস্ট বোলার হিসেবে জিম্বাবুয়ের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন ডাম্বানেভানা। পরে আম্পায়ারিংয়ে যুক্ত হয়ে দেশটির নারী ম্যাচ কর্মকর্তাদের পথিকৃৎ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার থেকে আম্পায়ার হয়ে ওঠার যাত্রায় ক্রিকেটের প্রতি তার নিবেদন এবং নারীদের জন্য নতুন পথ তৈরির দৃঢ়তা ফুটে উঠেছিল। তবে স্বল্পকালীন অসুস্থতার পর ৩৬ বছর বয়সে চলে গেলেন তিনি।
২০২২ সালে জিম্বাবুয়ে থেকে প্রথম নারী আম্পায়ার হিসেবে আইসিসির ডেভেলপমেন্ট আম্পায়ার প্যানেলে জায়গা করে নেন ডাম্বানেভানা। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো আইসিসির দায়িত্ব পান তিনি।
২০২৩ সালে ২ সেপ্টেম্বর বতসোয়ানার গ্যাবোরোনে কেনিয়া ও বতসোয়ানার মধ্যকার নারী টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ দিয়ে আন্তর্জাতিক আম্পায়ারিংয়ে অভিষেক হয় তার। এরপর ধারাবাহিক ভালো পারফরম্যান্সের মাধ্যমে এগিয়ে যান তিনি। এরই ধারাবাহিকতায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত ২০২৪ সালের আইসিসি নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আম্পায়ারিংয়ের দায়িত্ব পান ডাম্বানেভানা।
ক্যারিয়ারে সিনিয়র পর্যায়ে মোট ৭২টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে আম্পায়ারিং করেছেন তিনি। এর মধ্যে ছিল পুরুষদের ১০টি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক, নারীদের ১৪টি ওয়ানডে আন্তর্জাতিক এবং ৪৮টি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ।
২০২৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি নেপালে অনুষ্ঠিত আইসিসি নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বৈশ্বিক বাছাইপর্বে আয়ারল্যান্ড ও থাইল্যান্ডের মধ্যকার ম্যাচটিই ছিল তার শেষ আম্পায়ারিংয়ের দায়িত্ব।
ডাম্বানেভানার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ বলেন, “সারাহ ডাম্বানেভানার মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। জিম্বাবুয়ের হয়ে মাঠে খেলা থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক আম্পায়ার হিসেবে ইতিহাস গড়ার তার যাত্রা ছিল অনুপ্রেরণাদায়ক। তার অর্জন ক্রিকেট আম্পায়ারিংয়ে আরও বেশি নারীর এগিয়ে আসার পথ তৈরি করতে সহায়তা করেছে।”
তিনি আরও বলেন, “ক্রিকেটে তার অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে যাবে তার রেখে যাওয়া উত্তরাধিকার। এই কঠিন সময়ে আইসিসির পক্ষ থেকে তার পরিবার, বন্ধু, সহকর্মী এবং জিম্বাবুয়ের ক্রিকেট পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছে।”
