ভারতের কাছে বড় হারের লজ্জা পেল বাংলাদেশ

স্পোর্টসমেইল২৪ স্পোর্টসমেইল২৪ প্রকাশিত: ০৩:৩৭ এএম, ১৬ নভেম্বর ২০১৯
ভারতের কাছে বড় হারের লজ্জা পেল বাংলাদেশ

ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় হার দিয়ে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশীপ শুরু করলো বাংলাদেশ। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশীপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ভারতের কাছে ইন্দোর টেস্টে তিনদিনেই হেরে গেল টাইগাররা।

দুই টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচে ভারতের কাছে ইনিংস ও ১৩০ রানের বড় ব্যবধানে হারের লজ্জা পেল মমিনুল হকের দল। এ জয়ে দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বিরাট কোহলির ভারত।

ওপেনার মায়াঙ্ক আগারওয়ালের ২৪৩ রানের সুবাদে দ্বিতীয় দিন শেষে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেটে ৪৯৩ রান করেছিলো ভারত। তবে শুক্রবার রাতে ওই স্কোরেই নিজেদের প্রথম ইনিংস ঘোষণা করে টিম ইন্ডিয়া। ফলে ৩৪৩ রানে পিছিয়ে তেকে তৃতীয় দিনের শুরুতে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করে বাংলাদেশ।

দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করে আবারও ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। ১৬ রানের মধ্যে দুই ওপেনার সাদমান ইসলাম ও ইমরুল কায়েস ফিরে যান। ষষ্ঠ ওভারের প্রথম বলে ইমরুলকে বোল্ড করেন ভারতের পেসার উমেশ যাদব। আর সপ্তম ওভারের শেষ বলে সাদমানের উইকেট উপড়ে ফেলেন ভারতের আরেক পেসার ইশান্ত শর্মা।

দুই ওপেনারের বিদায়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। সেখান থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজেন তিন নম্বরে নামা অধিনায়ক মমিনুল হক ও চার নম্বরে নামা মোহাম্মদ মিঠুন। বাউন্ডারি মেরে ভারতের বোলারদের লাইন-লেন্থহীন করার চেষ্টা করেন তারা।

মিঠুনের ৩টি বাউন্ডারি তেমনই ইঙ্গিত দিচ্ছিল। তবে বল হাতে নিয়েই উইকেট তুলে নেন ভারতের তৃতীয় পেসার মোহাম্মদ সামি। নিজের প্রথম ওভারের পঞ্চম বলেই মমিনুলকে লেগ বিফোর ফাঁদে ফেলেন সামি। কিন্তু মমিনুলকে আউট দেননি অন-ফিল্ড আম্পায়ার। তাতেই রিভিউ নেন ভারতের অধিনায়ক। রিভিউতে সমাপ্তি ঘটে ৭ রান করা মমিনুনের ইনিংসের।

অধিনায়কের বিদায়ের কিছুক্ষণ পর সাজঘরের পথ ধরেন মিঠুন। সামির দ্বিতীয় শিকার হওয়ার আগে ৪টি চারে ১৮ রান করেন মিঠুন। ফলে ৪৪ রানেই চতুর্থ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এ অবস্থায় প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করেন মিডল-অর্ডারের দুই ভরসা মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদুউল্লাহ রিয়াদ। প্রথম সেশনে আর কোন উইকেট পড়তে দেননি তারা। তাই ৪ উইকেটে ৬০ রান নিয়ে মধ্যাহ্ন-বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।

বিরতির পর বাংলাদেশ শিবিরে আবারও আঘাত হানেন সামি। মাহমুদউল্লাহকে ইন-সুইংয়ে পরাস্ত করেন তিনি। দ্বিতীয় স্লিপে মাহমুদউল্লাহ’র ক্যাচ নেন রোহিত শর্মা। ২টি চারে ১৫ রান করেন মাহমুদউল্লাহ। দলীয় ৭২ রানে মাহমুুদউল্লাহ আউট হন। ফলে ইনিংস হারের আরও কাছে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ।

এ অবস্থায় ভারতের বোলারদের সামনে বড় জুটি গড়ার চেষ্টা করেন মুশফিক ও উইকেটরক্ষক লিটন দাস। বলের সাথে পাল্লা দিয়ে রান তোলার চেষ্টা করে দলের স্কোর শতরান অতিক্রম করান মুশফিক-লিটন। মুশফিক ব্যাট হাতে সতর্ক থাকলেও বাউন্ডারিতে মনোযোগী ছিলেন লিটন। ৬টি চারে উইকেটে সেট হয়ে যান লিটন। তাতে জমেও উঠেছিল মুশফিক-লিটন জুটি।

তবে ৪০তম ওভারের দ্বিতীয় বলে জমে যাওয়া এই জুটিতে ভাঙন ধরান ভারতের স্পিনার রবীচন্দ্রন অশ্বিন। উইকেট ছেড়ে শট খেলে অশ্বিনকেই ক্যাচ দেন লিটন। ৬টি চারে ৩৯ বলে ৩৫ রান করেন লিটন। এ জুটি ৬৩ রান উপহার দেন দলকে।

লিটনের বিদায়ে আবারও দ্রুত ইনিংস হারের দিকে ঝুঁকে পড়ে বাংলাদেশ। কিন্তু এবারও বড় জুটি পায় বাংলাদেশ। ক্রিজে মুশফিকের সঙ্গী হয়ে বড় জুটির চেষ্টা করেন মেহেদি হাসান মিরাজ। এ জুটিতে টেস্ট ক্যারিয়ারের ২০তম হাফ-সেঞ্চুরি তুলে নেন মুশফিক। মুশির হাফ-সেঞ্চুরির পরই চা-বিরতিতে যায় বাংলাদেশ। তাই মুশফিক-মিরাজের ব্যাটিং নৈপুন্যে ঘুড়ে দাড়ানোর চেষ্টা করে বাংলাদেশ।

চা-বিরতির পর ভারতকে দারুণ এক ব্রেক-থ্রু এনে দেন উমেশ। ৫টি চার ও ১টি ছক্কায় ৩৮ রান করা মিরাজকে বোল্ড করেন উমেশ। ফলে দলীয় ১৯৪ রানে বাংলাদেশের সপ্তম উইকেটের পতন ঘটে। এতে বাংলাদেশের ইনিংস হার সময়ের ব্যাপার হয়ে দাড়াঁয়।

দলীয় ২০৮ রানে বাংলাদেশের একমাত্র স্বীকৃত ব্যাটসম্যান মুশফিককে বিদায় দিয়ে ভারতকে জয়ের কিনারায় পৌঁছে দেন অশ্বিন। অশ্বিনকে ছক্কা মারতে গিয়ে মিড-অফে ক্যাচ দেন মুশি। সেখানে দারুন এক ক্যাচ নেন পুজারা ৭টি চারে ১৫০ বলে ৬৪ রান করেন মুশফিক। এরপর ২১৩ রানে শেষ হয় বাংলাদেশের ইনিংস।

বাংলাদেশের শেষ ব্যাটসম্যান এবাদত হোসেনকে শিকার করে ভারতের জয় নিশ্চিত করেন অশ্বিন। ভারতের পক্ষে সামি ৪টি, অশ্বিন ৩টি, উমেশ ২টি ও ইশান্ত ১টি উইকেট নেন।


শেয়ার করুন :


আরও পড়ুন

ব্রাডম্যানকে পেছনে ফেললেন আগারওয়াল

ব্রাডম্যানকে পেছনে ফেললেন আগারওয়াল

দেশের মাটিতে কোহলির তৃতীয় ‘ডাক’

দেশের মাটিতে কোহলির তৃতীয় ‘ডাক’

মুরলিধরনকে ছুঁলেন অশ্বিন

মুরলিধরনকে ছুঁলেন অশ্বিন

এক নজরে বাংলাদেশ-ভারত টেস্ট ফ্যাক্টবক্স

এক নজরে বাংলাদেশ-ভারত টেস্ট ফ্যাক্টবক্স