ব্যাটিং ব্যর্থতায় আয়ারল্যান্ডের কাছে হার দিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু করলো বাংলাদেশ। সিরিজের প্রথম ম্যাচে আয়ারল্যান্ডের কাছে ৩৯ রানে হেরে গেছে টাইগাররা। টি-টোয়েন্টিতে আইরিশদের কাছে বাংলাদেশের এটি তৃতীয় হার। একই সাথে এ হারে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে গেল লিটন দাসরা।
বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে আয়ারল্যান্ডকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানায় স্বাগতিক বাংলাদেশ।
ব্যাট করতে নেমে উদ্বোধনী জুটিতে ২৬ বলে ৪০ রান তুলে সুযোগটা ভালোভাবে কাজে লাগায় আয়ারল্যান্ড। এর মধ্যে বাংলাদেশের বাঁ-হাতি পেসার শরিফুল ইসলামের ওভারে ৪ বাউন্ডারিতে ১৮ রান তোলেন আয়ারল্যান্ড ওপেনার টিম টেক্টর।
এরপর দলীয় ১০৫ রানে তৃতীয় উইকেট পতনের পর আয়ারল্যান্ডকে বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেন হ্যারি টেক্টর ও কার্টিস ক্যাম্ফার। চতুর্থ উইকেটে ২৯ বলে ৪৪ রান যোগ করেন তারা। এতে ১৭ ওভার শেষে ১৪৮ রান পেয়ে যায় আয়ারল্যান্ড।
ইনিংসের শেষ ১৬ বলে ৩২ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে আয়ারল্যান্ডকে ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ১৮১ রানের বড় সংগ্রহ এনে দেন হ্যারি টেক্টর ও জিওর্জি ডকরেল।
তানজিমের করা ইনিংসের শেষ ওভারে হ্যারি টেক্টরের দুই ছক্কায় ১৭ রান পায় আইরিশরা। বাংলাদেশের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে এটিই সর্বোচ্চ দলীয় রান আয়ারল্যান্ডের।
টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের সপ্তম হাফ-সেঞ্চুরির ইনিংসে অপরাজিত ৬৯ রান করেন টেক্টর। ৪৫ বল খেলে ১টি চার ও ৫টি ছক্কা মারেন তিনি। ২ চারে ৭ বলে ১২ রান করেন ডকরেল।
তানজিম ৪১ রানে ২টি, শরিফুল ও রিশাদ ১টি করে উইকেট নেন।
১৮২ রান তাড়া করতে নেমে দলীয় ৫ রানে ৩ এবং ১৮ রানে ৪ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। তানজিদ হাসান ২, পারভেজ হোসেন ইমন-অধিনায়ক লিটন দাস ১ রান করে এবং সাইফ হাসান ৬ রানে আউট হন। এ সময় মার্ক অ্যাডায়ার ২টি, ব্যারি ম্যাকার্থি ও ম্যাথিউ হামফ্রিজ ১টি করে উইকেট নেন।
পঞ্চম উইকেটে ৩৪ বলে ৪৮ রানের জুটিতে দলকে চাপমুক্ত করার চেষ্টা করেন তাওহিদ হৃদয় ও জাকের আলি। দলীয় ৬৬ রানে জাকেরকে শিকার করে জুটি ভাঙেন ম্যাকার্থি। ১ ছক্কায় ১৬ বলে ২০ রান করেন জাকের।
১৩তম ওভারে ৩ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে হারের মুখে ছিটকে দেন স্পিনার হামফ্রিজ। তানজিমকে ৫, রিশাদ ও নাসুমকে শূন্য হাতে ফিরিয়ে দেন তিনি। এতে ৭৪ রানে অষ্টম উইকেট পতনে দ্রুত গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় পড়ে বাংলাদেশ।
তবে সেটি হতে দেননি হৃদয় ও শরিফুল ইসলাম। নবম উইকেটে ৩১ বলে ৪৮ রান যোগ করে বাংলাদেশকে বড় হারের লজ্জা থেকে রক্ষা করেন তারা। এ জুটিতেই ৩৪ বলে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের পঞ্চম হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন হৃদয়।
শরিফুল ১২ রান করে ফিরলেও ইনিংসের শেষ পর্যন্ত টিকে ছিলেন হৃদয়। তার লড়াকু ইনিংসের সুবাদে ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৪২ রান করে বাংলাদেশ।
৭টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৫০ বলে ক্যারিয়ার সেরা অনবদ্য ৮৩ রান করেন হৃদয়। বল হাতে আয়ারল্যান্ডের হামফ্রিজ ১৩ রানে ৪ এবং ম্যাকার্থি ২৩ রানে ৩ উইকেট নেন।
