নারী এশিয়া কাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে দাপুটে জয় তুলে নিলেও দ্বিতীয় ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৪ উইকেটে হারলো বাংলাদেশের মেয়েরা। মূলত ব্যাটিং ব্যর্থতায় ১১৪ রানের পূঁজি নিয়ে শ্রীলঙ্কাকে আটকাতে পারেনি নিগার সুলতানা জ্যোতিরা। এই নিয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে টানা ৭ ম্যাচ জিতলো শ্রীলঙ্কা।
সেমি-ফাইনালে ভারতকে এড়াতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয়টা পাওয়া অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছিল বাংলাদেশের জন্য। তবে সেটি করতে পারেনি বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। বরং তিন ম্যাচে পূর্ণ ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেমির টিকিট নিশ্চিত করেছে শ্রীলঙ্কা।
শ্রীলঙ্কার কাছে হারলেও বাংলাদেশের এখনো সেমি-ফাইনালে খেলার সুযোগ রয়েছে। মঙ্গলবার গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে জিততে পারলেই শেষ চারের টিকিট নিশ্চিত করবে বাংলাদেশের মেয়েরা। প্রথম ম্যাচে ইন্দোনেশিয়াকে ৭১ রানে হারিয়ে ছিল বাংলাদেশ।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর, বাংলাদেশ সময় রাতে) শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ভালো শুরু পায় বাংলাদেশ। প্রথম চার ওভারে কোনো উইকেট পড়তে দেননি দুই ওপেনার জুয়াইরিয়া ফেরদৌস জয়িতা ও দিলারা আক্তার দোলা। পঞ্চম ওভারে বাউন্ডারির খোঁজে উইকেট দিয়ে আসেন জয়িতা।
৩ চারে জয়িতার ব্যাট থেকে আসে ১০ বলে ১৪ রান। পাওয়ার প্লের শেষ হওয়ার পর ড্রেসিং রুমের পথ ধরেন আরেক ওপেনার দিলারা। তার ব্যাট থেকে আসে ৪ চারে ২৬ বলে ২৬ রান। অধিনায়ক জ্যোতি বেশিক্ষণ ক্রিজে টিকতে পারেননি। চার নম্বরে নেমে ৯ বলে ৪ রান করে আউট হন তিনি।
চতুর্থ উইকেটে ৪০ বলে ৪১ রানের জুটি গড়েন সোবহানা মোস্তারি ও স্বর্ণা আক্তার। তবে ২০ রানের জীবন পেলেও নিজের ইনিংস বড় করতে পারেননি সোবহানা। চারটি চারে ৩৪ রান করতে তিনি খেলেন ৪১ বল।
এছাড়া স্বর্ণার ব্যাট থেকে আসে ১৪ বলে মাত্র ৯ রান। শেষ ওভারে পরপর রিভার্স সুইপ ও প্যাডেল সুইপে দুইটি বাউন্ডারি মেরে দলকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেন ফাহিমা খাতুন।
শ্রীলঙ্কার পক্ষে ৪ ওভারে ২১ রানে ৩ উইকেট নেন চামুদি প্রবোদা। এছাড়া ৪ ওভারে ১ মেডেনসহ ২২ রান খরচায় ২ উইকেট নেন সুগন্ধিকা কুমারি।
রান তাড়া করতে নেমে মারুফা আক্তারের প্রথম বলেই বাউন্ডারি মারেন ইমেশা দুলানি। তবে ওভারের শেষ বলে চামারি আতাপাত্তুকে ফিরিয়ে দারুণ জবাব দেন বাংলাদেশের তরুণ পেসার। নিজের পরের ওভারের শেষ বলে চমৎকার ডেলিভারিতে দুলানিকেও বোল্ড করেন মারুফা।
৪৪ রানে ৫ উইকেট নিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় বাংলাদেশ। তবে হাল ছাড়েননি হর্শিতা সামারাবিক্রমা ও নীলক্ষ্মী ডি সিলভা। দুজন মিলে ষষ্ঠ উইকেটে গড়েন ৩৮ রানের জুটি। ১৭তম ওভারে আক্রমণে ফিরে দারুণ ডেলিভারিতে ১৮ রান করা নীলক্ষ্মীকে বোল্ড করেন মারুফা।
মারুফার চমৎকার বোলিংয়ে শেষ ৩ ওভারে শ্রীলঙ্কার সামনে দাঁড়ায় ২৯ রানের সমীকরণ। তখনই যেন নিজের সেরা ছন্দ খুঁজে পান হর্শিতা। রিতুর করা ১৮তম ওভারের প্রথম তিন বলে চার ও ছক্কা মেরে নিয়ে নেন ১২ রান।
ওই ওভারে ১৬ রান নিয়ে সমীকরণ ২ ওভারে ১৩ রানে নামায় লঙ্কানরা। পরে নাহিদার করা ১৯তম ওভারের শেষ বলে ছক্কা মেরে ম্যাচ হাতের মুঠোয় নিয়ে নেন হর্শিতা। শেষ ওভারে বাকি থাকা ২ রান নিতে কোনো সমস্যাই হয়নি লঙ্কান মেয়েদের।
শেষ পর্যন্ত ৪ চার ও ২ ছক্কায় ৩৭ বলে ৪৮ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচ সেরা হন হর্শিতা। বাংলাদেশের পক্ষে ২১ রানে ৩ উইকেট শিকার করেন মারুফা আক্তার।
