ইংল্যান্ডের স্বপ্ন ভেঙে ইউরো চ্যাম্পিয়ন ইতালি

স্পোর্টসমেইল২৪ স্পোর্টসমেইল২৪ প্রকাশিত: ০৭:০৫ এএম, ১২ জুলাই ২০২১
ইংল্যান্ডের স্বপ্ন ভেঙে ইউরো চ্যাম্পিয়ন ইতালি

উয়েফো ইউরোর-২০২০ আসরের ফাইনালে শ্বাসরুদ্ধকর একটি ম্যাচ উপহার দিলো ইংল্যান্ড এবং ইতালি। কানায় কানায় দর্শকপূর্ণ স্টেডিয়ামে ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে নানা নাটকীয়তায় ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ইউরো চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ইতালি। এ জয়ে ৫৩ বছর পর ইউরোপ সেরার শিরোপা নিজেদের করলো ইতালি।

রোববার (১১ জুলাই) রাতে (বাংলাদেশ সময়) ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে ইংলিশদের উৎসাহ দিতে হাজার হাজার দর্শক উপস্থিত ছিল।টানটান উত্তেজনায় ম্যাচের শুরুতেই হোঁচট খেয়ে বসে ইতালি। ম্যাচের দুই মিনিটেই এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। তবে দ্বিতীয়ার্ধে সমতায় ফিরলে শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি গড়ায় টাইব্রেকারে।

টাইব্রেকারেও ঘটে নাটকীয় ঘটনা। প্রথম শটে গোল করে ইতালি। ডোমেনিকো বেরারদির শটে ১-০ এগিয়ে যায় তারা। ইংল্যান্ডের প্রথম শটে অধিনায়ক হ্যারি কেইন দলকে (১-১) সমতায় ফেরান।

ইতালির পক্ষে দ্বিতীয় শট নেন আন্দ্রে বেলোত্তি। তবে এবার বল ঠেকিয়ে দেন ইংলিশ গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড, ১-১। এরপর হ্যারি মাগুইরে শটে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড, ১-২। লিওনার্দো বনুচ্চির নেওয়া তৃতীয় শটে সমতায় ফিরে ইতালি, ২-২।

প্রথম দুই শটে গোল পেলেও বাকিগুলোতে খেই হারিয়ে ফেলেন স্বাগতিকরা। ইংল্যান্ডের তৃতীয় শটে মার্কাস রাশফোর্ড বাম পাশের পোস্টে বল পাঠালে গোল বঞ্চিত হন (২-২)। তবে চতুর্থ শটে ফেডেরিকো বার্নার্ডেশি গোল আদায় করলে এগিয়ে যায় ইতালি, ৩-২। অন্যদিকে, চতুর্থ শটের গোল পায়নি ইংল্যান্ড। জ্যাডন সানচোর নেওয়া শট ঠেকিয়ে দেন ইতালির গোলরক্ষক ডোনারুমা, ৩-২।

চতুর্থ শটে পিছিয়ে পড়লেও ইতালির পঞ্চম তথা শেষ শট ঠেকিয়ে দিয়ে আশা জাগায় ইংল্যান্ড। জর্জিনহোর নেওয়া শট ঠেকিয়ে দেন ইংলিশ গোলরক্ষক পিকফোর্ড, ৩-২। তবে ইংল্যান্ডের শেষ শটে ঘটে আরেক ঘটনা। বুকাইয়ো সাকার নেওয়া সেই শটও ঠেকিয়ে দেন ডোনারুমা। সঙ্গে সঙ্গে উল্লাসে মাতে ইতালি। ৩-২ ব্যবধানে জিতে নেয় ইউরোর শিরোপা।

এর আগে ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেরই কাউন্টার অ্যাটাকে এগিয়ে যায় স্বাগতিক ইংল্যান্ড। সেই লিড ধরে রাখে পরের ৬৫ মিনিট। আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের দুর্দান্ত খেলায় ইতালি সমতায় ফেলে ৬৭তম মিনিটে।

দুর্দান্ত এক গোলে ইতালিকে সমতায় ফেরার দলের অভিজ্ঞ ফুটবলার বনুচ্চি। ইনসিগনের নেওয়া কর্নার কিক থেকে ভেসে আসা বলে হেড করেন ভেরাত্তি। ইংলিশ গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড সেটি ফেরানোর চেষ্টা করলেও সাইড বারে লেগে বল ফিরে আসে। ফিরতি বলে বনুচ্চির বিদ্যুৎ গতির শট ইংল্যান্ডের জাল জাড়ায়।

পুরো ম্যাচে ৬৬ শতাংশ সময় বল দখলে রেখে গোলের উদ্দেশে ১৯টি শট নিয়েছিল ইতালি। যার মধ্যে ছয়টি টার্গেটের হলেও গোল পায় মাত্র একটিতে। বিপরীতে ইংল্যান্ড শট নিয়েছে ৬টি, যার দুটি ছিল গোলের লক্ষ্যে। ১৯৬৬ বিশ্বকাপের পর বড় উৎসব করতে ব্যর্থ হয় ইংল্যান্ড।

১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপ জয়ের পর প্রথমবার বড় কোনো টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠেছিল ইংলিশরা। ইউরোতে এটাই প্রথম ছিল। নিজেদের মাঠে প্রায় ৬৬ হাজার দর্শক-সমর্থকের সামনে শেষ পর্যন্ত হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় ইংলিশদের।

স্পোর্টসমেইল২৪/আরএস 

[sportsmail24.com এখন sportsmail.com.bd ঠিকানাতেও। খেলাধুলার ভিডিও-ছবি এবং  সর্বশেষ সংবাদ পড়তে ব্রাউজ করুন যেকোন ঠিকানায়। এছাড়া অ্যান্ড্রয়েড মোবাইলে ইনস্ট্রল করে নিতে আমাদের অ্যাপস ]


শেয়ার করুন :


আরও পড়ুন

ব্রাজিলকে হারিয়ে কোপা আমেরিকা চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা

ব্রাজিলকে হারিয়ে কোপা আমেরিকা চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা

গোলরক্ষকের চোখে লেজার লাইট, তদন্তের মুখে ইংল্যান্ড

গোলরক্ষকের চোখে লেজার লাইট, তদন্তের মুখে ইংল্যান্ড

ইউরোর ইতিহাসে ইতালির যত সাফল্য-ব্যর্থতা

ইউরোর ইতিহাসে ইতালির যত সাফল্য-ব্যর্থতা

যে কারণে অফসাইড ছিল না ডি মারিয়ার গোল

যে কারণে অফসাইড ছিল না ডি মারিয়ার গোল