ফাইনালে যেতে বাংলাদেশের লক্ষ্য ১৬০

স্পোর্টস মেইল২৪ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯:১১ পিএম, ১৬ মার্চ ২০১৮
ফাইনালে যেতে বাংলাদেশের লক্ষ্য ১৬০

নিদাহাস ট্রফি ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজের ফাইনালে যেতে বাংলাদেশকে ১৬০ রানের টার্গেট দিয়েছে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা।

টুর্নামেন্টে ষষ্ঠ ও লিগ পর্বের শেষ ম্যাচে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করে ৭ উইকেটে ১৫৯ রান করেছে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা।

কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে খেলার শুরুর আগে বাংলাদেশের সাকিব আল হাসান ইস্যু সবচেয়ে বড় আকার ধারন করেছিল ক্রিকেটঙ্গনে। তিনি কি খেলবেন, নাকি খেলবেন না। অবশেষে অধিনায়ক হিসেবে টস লড়াইয়ে নামেন সাকিব। টসে জয়ও পেয়েছেন তিনি। তাই প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্বান্ত সাকিবের।

শুধুমাত্র ফিল্ডিং করার সিদ্বান্তই নেননি দলের সেরা তারকা সাকিব। ফিল্ডিংয়ের সিদ্বান্ত নিয়ে বল হাতে প্রথমেই আক্রমণেও হাজির হন তিনি। নিজের প্রথম ওভারে মাত্র ৩ রান দেন সাকিব। পরের ওভারে দু’টি চারে বাংলাদেশের পেসার রুবেল হোসেন দেন ১২ রান। তাই শুরুটা ভালো করার আত্মবিশ্বাস পায় শ্রীলঙ্কার দুই ওপেনার দানুস্কা গুনাথিলাকা ও কুশল মেন্ডিজ।

তবে ইনিংসের তৃতীয় ওভারে শ্রীলঙ্কার দুই ওপেনারের আত্মবিশ্বাসে ছেদ কাটেন সাকিব নিজেই। নিজের প্রথম ডেলিভারিতেই গুনাথিলাকাকে বিদায় দেন সাকিব। প্রায় দেড় মাস পর দলে ফিরেই নিজের সপ্তম ডেলিভারিতেই উইকেট শিকারের আনন্দে মাতলেন সাকিব। ৪ রান করেন গুনাথিলাকা।

প্রথম ওভারে রুবেল ব্যয়বহুল হওয়ায় তাকে আক্রমণ থেকে সরিয়ে নেন সাকিব। আক্রমণে নিয়ে আসেন কাটার মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমানকে। সাকিবের আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন ফিজ। শেষ ডেলিভারিতে আরেক ওপেনার কুশল মেন্ডিজকে থামান মোস্তাফিজ। তার ওভারটি ছিল উইকেট মেডেন।

প্রথম উইকেট নিয়ে ক্ষান্ত হননি মোস্তাফিজুর। মেন্ডিজকে ব্যক্তিগত ১১ রানে থামানোর পর নিজের পরের ওভারের চতুর্থ ডেলিভারিতে দাসুন শানাকার উইকেটটিও তুলে দেন ফিজ। এর আগে ঐ ওভারের দ্বিতীয় ডেলিভারিতে রান আউট হন উপুল থারাঙ্গা। থারাঙ্গা ৫ ও শানাক শূন্য রানে ফিরেন।

৩২ রানে চতুর্থ উইকেট হারানোয় ধুকঁতে থাকা শ্রীলঙ্কাকে আরও চাপে ফেলে দেন বাংলাদেশের অফ-স্পিনার মেহেদি হাসান মিরাজ। ছয় নম্বরে নামা জীবন মেন্ডিজকে থামান মিরাজ। মাত্র ৩ রান করেন মেন্ডিজ। এতে ৮ দশমিক ১ ওভারে ৫ উইকেটে ৪১ রানে পরিণত হয় শ্রীলঙ্কা।

এ অবস্থায় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরিভাবেই নিয়ে নেয় বাংলাদেশ। তবে চাপে পড়েও দমে যায়নি ওই সময় ক্রিজে থাকা দুই ব্যাটসম্যান কুশল পেরেরা ও অধিনায়ক থিসারা পেরেরা। ব্যাট হাতে পাল্টা আক্রমণ চালান তারা। এতে ভড়কে যায় বাংলাদেশের বোলাররা। এই সুযোগে উইকেটে চারপাশে চার-ছক্কার ফুলকি ফোটান দুই পেরেরা। ফলে ১৬তম ওভারের প্রথম বলেই তিন অংকে পৌঁছায় শ্রীলঙ্কার দলীয় সংগ্রহ।

শেষ পর্যন্ত দলীয় ১৩৮ রানে বিচ্ছিন্ন হন দুই পেরেরা। মাত্র ৬১ বলে ৯৭ রান যোগ করেন তারা। টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের দশম হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ নেয়া কুশলকে শিকার করেন সৌম্য। ৭টি চার ও ১টি ছক্কায় ৪০ বলে ৬১ রান করেন কুশল।

কুশলের মত হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ নিয়েছেন পেরেরাও। তবে ৭২ ম্যাচের ক্যারিয়ারে প্রথম। শেষ পর্যন্ত ৩টি করে চার ও ছক্কায় ৩৭ বলে ৫৮ রান করেন তিনি। এ ছাড়া শেষদিকে ইসুরু উদানা অপরাজিত ৭ ও আকিলা ধনঞ্জয়া অপরাজিত ১ রান করেন। ফলে ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৫৯ রান করে শ্রীলঙ্কা। বাংলাদেশের মোস্তাফিজ ২টি, সাকিব-রুবেল-মিরাজ ও সৌম্য ১টি করে উইকেট নেন।


শেয়ার করুন :