সিরিজ হারের পর হোয়াইটওয়াশ হলো বাংলাদেশ

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯:১২ এএম, ০৮ জুন ২০১৮
সিরিজ হারের পর হোয়াইটওয়াশ হলো বাংলাদেশ

দেরাদুনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে বাংলাদেশকে ১ রানে হারিয়েছে আফগানিস্তান। এ জয়ে বাংলাদেশকে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করলো আফগানরা।

টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৪৫ রান করে আফগানরা। জবাবে ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৪৪ রান করে বাংলাদেশ। প্রথম দুই ম্যাচে জিততে না পারলেও তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে টস লড়াইয়ে জয় পান আফগানিস্তানের অধিনায়ক আসগর স্টানিকজাই। ২০ ওভার ব্যাট করে ১৪৫ তুলে আফগানিস্তান।

শেষদিকে রান দেয়ায় কৃপণ ছিলেন বাংলাদেশের বোলাররা। বিশেষভাবে ইনিংসের শেষ ওভারে। বল হাতে একটি উইকেট শিকারসহ মাত্র ৩ রান দেন বাংলাদেশের নাজমুল। তাই বাংলাদেশের পক্ষে সবচেয়ে সফল বোলারও ছিলেন তিনি। ৪ ওভারে ১৮ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন নাজমুল। এছাড়া আবু জায়েদ ২টি, সাকিব ও আরিফুল ১টি করে উইকেট নেন। আফগানিস্তানের শেনওয়ারি ২৮ বলে অপরাজিত ৩৩ ও নাজিবুল্লাহ জাদরান ১৫ রান করেন।

সিরিজ হার আগেই নিশ্চিত, তাই তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে ছিল হোয়াইটওয়াশ হওয়ার ভয়। আর সেটাই হলো। ব্যাট করতে নেমে দলীয় ১৬ রানে প্রথম প্যাভিলিয়নে ফিরেন ওপেনার তামিম ইকবাল। আফগানিস্তানের স্পিনার মুজিব উর রহমানকে উইকেট ছেড়ে মারতে গিয়ে এক্সট্রা কভারে ক্যাচ দেন তিনি। তখন তামিমের নামের পাশে ছিল ৫ রান।

ব্যাটিংয়ে প্রমোশন পেয়ে তিন নম্বরে আসেন সৌম্য সরকার। ১টি করে চার-ছক্কায় ভালো কিছুর ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু আশার বেলুন ফুটো করে দেন সৌম্য নিজেই। আরেক ওপেনার লিটনের সাথে ভুল বুঝাবুঝিতে রান আউটের ফাঁদে পড়েন সৌম্য, করেন ১৩ বলে ১৫ রান।

কিছুক্ষণ পর রান আউটে কাটা পড়ে নিজের ইনিংসের সমাপ্তি টানেন লিটনও। রান নেয়ায় জন্য দৌঁড় দিয়ে মুশফিকুর রহিমের অনিচ্ছা প্রকাশে আউট হতে হয় লিটনকে। ১৪ বলে ১২ রান করেন তিনি। লিটনের বিদায়ে ষষ্ঠ ওভারেই উইকেট যাবার সুযোগ ঘটে সাকিবের। কিন্তু বেশিক্ষণ উইকেটে টিকে থাকতে পারেননি বাংলাদেশ দলনেতা। এক্সট্রা কভারে শেনওয়ারির দুর্দান্ত ক্যাচে বিদায় নিতে হয় সাকিবকে। ১টি ছক্কায় ৯ বলে ১০ রান করেন সাকিব।

দলীয় ৫৩ রানে সাকিবের বিদায়ের পর বাংলাদেশকে সামনের দিকে টেনে নেন মুশফিকুর ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। উইকেটে টিকে থেকে বাংলাদেশের আশা বাঁচিয়ে রাখেন তারা। ফলে শেষ ৫ ওভারে ৫৫ রানের লক্ষ্যমাত্র দাঁড়ায় টাইগারদের। এরপর ১২ বলে প্রয়োজন পড়ে ৩০ রান।

১৯তম ওভারে আফগানিস্তানের ডান-হাতি পেসার করিম জানাতের প্রথম পাঁচ বল থেকেই পাঁচটি বাউন্ডারিতে ২০ রান তুলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেন মুশফিকুর। এরপর ঐ ওভারের শেষ বলে ১ রান নিয়ে জয়ের জন্য ৬ বলে ৯ রানের টার্গেট দাঁড় করান মুশি। তবে শেষ ওভারে আফগানিস্তানের রশিদ খানের প্রথম বলে ডিপ স্কয়ার লেগে ক্যাচ দিয়ে আউট হন মুশফিক। ৭টি চারে ৩৭ বলে ৪৬ রান করেন মুশফিকুর।

পরের চার বল থেকে পাঁচ রান পায় বাংলাদেশ। ফলে শেষ বলে জয়ের জন্য ৪ রান দরকার পড়ে বাংলাদেশের। শেষ বলটি বাউন্ডারির দিকেই মেরেছিলেন বাংলাদেশের আরিফুল। কিন্তু সেখানে দুর্দান্ত ফিল্ডিংয়েবলকে বাউন্ডারির সীমানা পার হতে দেননি আফগানিস্তানের শফিক। মাত্র ২ রান নিয়েই থামতে হয় বাংলাদেশেকে।

ফলে ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৪৪ রান সংগ্রহ করে মাত্র ১ রানে ম্যাচ হেরে যায় টাইগাররা। মাহমুদুল্লাহ ৩টি চার ও ২টি ছক্কায় ৩৫ বলে অপরাজিত ৪৫ রান করেন। ৩ বলে ৫ রান নিয়ে অপরাজিত ছিলেন আরিফুল।


শেয়ার করুন :


আরও পড়ুন

মাশরাফি-সাকিবদের কোচ স্টিভ রোডস

মাশরাফি-সাকিবদের কোচ স্টিভ রোডস

ভারতকেও উড়িয়ে দিলো বাংলাদেশের মেয়েরা

ভারতকেও উড়িয়ে দিলো বাংলাদেশের মেয়েরা

আফগানদের কাছে সিরিজ হারালো বাংলাদেশ

আফগানদের কাছে সিরিজ হারালো বাংলাদেশ

বাংলাদেশের ৭৫ রানের লজ্জাজনক হার

বাংলাদেশের ৭৫ রানের লজ্জাজনক হার