ক্রোয়েশিয়ার স্বপ্ন ভেঙে চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স

স্পোর্টস মেইল২৪ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:৫৬ পিএম, ১৫ জুলাই ২০১৮
ক্রোয়েশিয়ার স্বপ্ন ভেঙে চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স

শুধু ক্রোয়েশিয়া নয়, পুরো বিশ্বের কোটি কোটি ক্রোয়েশিয়া ভক্তের স্বপ্ন ভেঙে রাশিয়া ফুটবল বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ফ্রান্স। এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো ফিফার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হলো দেশটি। অন্যদিকে এবারই প্রথমবারের মতো ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন ভাঙলো ক্রোয়েশিয়ার।

২১তম ফুটবল বিশ্বকাপে ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’র ফাইনালে ক্রোয়েশিয়াকে ৪-২ গোলে হারায় ফ্রান্স। ১৯৯৮ সালের পর আবারও বিশ্বকাপের শিরোপা জিতে নেয় ফ্রান্স। মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই সর্তক কিন্তু দুর্দান্ত ফুটবল খেলতে ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়া। বল দখলের লড়াইয়ের মাঝে নিজেদের গুছিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে তারা। ৪-৪-২ ফরমেশনে শুরু করা ফ্রান্স ১৮ মিনিটেই গোলের স্বাদ নেয়। অবশ্য এ জন্য পুরো কৃতিত্ব ক্রোয়েশিয়ার। কারণ গোলটি ছিল আত্মঘাতী।

গোল হজমের পর তেতে ওঠে ৪-১-৪-১ ফরমেশনে ফাইনাল খেলতে নামা ক্রোয়েশিয়া। অবশ্য এমন অভিজ্ঞতা এবারের বিশ্বকাপ থেকে অর্জন করেছে ক্রোয়েশিয়া। নক-আউট পর্বের তিন ম্যাচেই গোল হজমের পর ম্যাচে সমতা এনে সেই ম্যাচগুলো জিতেছেও ক্রোয়েশিয়া। তাই ম্যাচের ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে তারা। আক্রমণ অব্যাহত রেখে ২১ মিনিটে ফ্রান্স শিবিরে আক্রমণ চালায় ক্রোয়েশিয়া। মিডফিল্ডার ও অধিনায়ক লুকা মড্রিচের ক্রস থেকে মাথার সহায়তায় গোল করার চেষ্টা করেন ডিফেন্ডার ডোমাগো ভিদা। কিন্তু সেই হেডে বল চলে যায় বারের উপর দিয়ে। ফলে গোল বঞ্চিত হয় ক্রোয়েশিয়া।

ম্যাচের ২৪ মিনিটে আবারও ভালো একটি আক্রমণ করে ক্রোয়েশিয়া। ফ্রান্সকে গোল উপহার দেয়া মান্দজুকিচ বল যোগান দিয়েছিলেন মিডফিল্ডার ইভান রাকিটিচকে। বল পেয়ে ফ্রান্সের বারের উপর দিয়ে বল মারেন রাকিটিচ। তবে ২৮ মিনিটে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে ক্রোয়েশিয়া। কর্নার থেকে জটলার মধ্যে বল পান মিডফিল্ডার ইভান পেরিসিচ। বল দখলে নিয়ে কিছুটা বাঁ-দিকে সড়ে গিয়ে ফ্রান্সের গোলমুখে শট নেয়ার পথ তৈরি করে প্রায় ২০ গজ থেকে তীব্র শটে বলকে ফ্রান্সের জালে আশ্রয় দেন পেরিসিচ(১-১)। পেরিসিচের গোলে ম্যাচে সমতা ফিরিয়ে আনার আরো আক্রমণাত্মক খেলা শুরু করে ক্রোয়েশিয়া।

সমতা এনেও বল দখলে রাখে ক্রোয়েশিয়া। আক্রমণও রচনা করার চেষ্টায় ছিল তারা। কিন্তু ৩৮ মিনিটে আবারও ভাগ্যের দোষে গোল হজম করে ক্রোয়েশিয়া। বক্সের ভেতর ফ্রান্সের স্ট্রাইকার গ্রিজম্যানের নেয়া কর্নারে উড়ে আসা বল হাতে লাগে ক্রোয়েশিয়ার মিডফিল্ডার পেরিসিচের। এতে পেনাল্টির আবেদন করে ফ্রান্স।

কিন্তু দেখতে না পারায় পেনাল্টি এড়িয়ে যান অনফিল্ড রেফারি আর্জেন্টিনার নেস্তর পিতানা। তবে ফরাসিদের জোড়াজুড়িতে বাধ্য হয়ে ভিএআরের সহায়তা নেন পিতানা। ভিডিওতে স্পষ্টই দেখা যায়, বল পেরিসিচের হাতে লেগেছে। তাই নিজের সিদ্বান্ত থেকে সড়ে এসে পেনাল্টির নির্দেশ দেন পিতানা। পেনাল্টি থেকে গোল করে ফ্রান্সকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন গ্রিজম্যান।

২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই ম্যাচের বিরতিতে যায় ফ্রান্স। তবে এসময় বল দখলে এগিয়ে ছিল ক্রোয়েশিয়াই। ৬৭ শতাংশ বল দখলে রাখতে পারে ক্রোয়েশিয়া। প্রতিপক্ষের সীমানায় আক্রমণেও এগিয়ে ছিল তারা। সাতবার আক্রমণ করে দু’বার ফরাসিদের গোলমুখে শট নেয় ক্রোয়েশিয়া। অপরদিকে ৩৩ শতাংশ বল দখলে রেখে ক্রোয়েশিয়ার সীমানায় একবার আক্রমণ করে একবারই গোলমুখে শট নিতে পারে ফ্রান্স।

বিরতিতে থেকে ফিরে প্রথম আক্রমণ করে ক্রোয়েশিয়া। ৪৮ মিনিটে রাকিটিচের পাশ থেকে প্রতিপক্ষের গোলমুখে তীব্র গতির এক শট নেন ডিফেন্ডার সিমে ভার্সালিকো। কিন্তু তার শট ফ্রান্সের গোলরক্ষক হুগো লরিস কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন। ৫২ মিনিটে মধ্যমাঠ থেকে বল নিয়ে দুর্বার গতিতে ক্রোয়েশিয়ার বক্সের ভেতর ঢুকে পড়েন ফ্রান্সে স্ট্রাইকার কিলিয়ান এমবাপে। এরপর গোলমুখে শট নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু গোলবার ছেড়ে কিছুটা সামনে এসে সেই শট রুখে দেন ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষক ড্যানিয়েল সুবাসিচ।

এর পর ৫৯ মিনিটে মধ্যমাঠ থেকে আবারও আক্রমণ শানায় ফ্রান্স। এবার মিডফিল্ডার পল পগবা। পগবার কাছ থেকে বল পেয়ে ক্রোয়েশিয়ার বক্সের ভেতর ঢুকে গোলে শট নেন এমবাপে। তার শট ক্রোয়েশিয়ার ডিফেন্ডারদের গায়ে লেগে চলে যায় ডি-বক্সের কাছাকাছি। সেখানে বল পান গ্রিজম্যান। আলতো ছোয়ায় সামনেই থাকা পগবাকে বল দেন গ্রিজম্যান। বল পেয়ে ডান পায়ে ক্রোয়েশিয়ার গোলমুখে শট নেন পগবা। সেই শট ক্রোয়েশিয়ার ডিফেন্ডার ডেজান লভরেনের গায়ে লেগে ফিরে আসে। ফিরে আসা বলে এবার বাঁ-পায়ে শট নেন পগবা। তার বল ক্রোয়েশিয়ার জালে চুমু খেলে ৩-১ গোলে এগিয়ে যায় ফ্রান্স।

এ গোলের রেশ কাটতে না কাটতে আবারও গোল আদায় করে নেয় ক্রোয়েশিয়া। ৬৫ মিনিটে এবার গোলদাতাদের তালিকায় নাম তুলেন তরুণ-তুর্কি এমবাপে। মধ্যমাঠ থেকে বল নিয়ে একক প্রচেষ্টায় ক্রোয়েশিয়ার বক্সের ভেতর ঢুকার চেষ্টায় ছিলেন ডিফেন্ডার লুকাস হার্নান্দেজ। কিন্তু ক্রোয়েশিয়ার ডি-বক্সের কাছাকাছি এমবাপেকে দেখতে পান হার্নান্দেজ। আর তাই এমবাপেকে বল বাড়িয়ে দেন হার্নান্দেজ। বল পেয়ে সামান্য বাঁ-দিকে সড়ে ডান-পায়ের তীব্র শটে বল ক্রোয়েশিয়ার জালে পাঠান এমবাপে। এই গোলে ৪-১ ব্যবধানে এগিয়ে শিরোপা জয়ের আরও কাছে চলে আসে ফ্রান্স।

ফ্রান্সের চতুর্থ গোলের ৪ মিনিট পর ভাগ্যের সহায়তায় ব্যবধান কমায় ক্রোয়েশিয়া। ফ্রান্সের ডিফেন্ডার স্যামুয়েল উমিতিতি বল সড়াতে মধ্যমাঠ থেকে মাইনাস করে দলের গোলরক্ষক হুগো লরিসকে দেন। ততক্ষণে হরিসের সামনে চলে আসেন ক্রোয়েশিয়ার স্ট্রাইকার ও ফরাসিদের প্রথমেই আত্মঘাতি গোল উপহার দেয়া মান্দজুকিচ। ফ্রান্সের গোলরক্ষক লরিস বড় সড়াতে গিয়ে ব্যর্থ হন। বলে পা দিয়ে গোল আদায় করে নেন মান্দজুকিচ। ফলে ব্যবধান কমিয়ে ৪-২ স্কোরলাইন করে ক্রোয়েশিয়া।

শেষদিকে আক্রমণ করেও আর গোল আদায় করে নিতে পারেনি ক্রোয়েশিয়া। গোলের ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েও তা কাজে লাগাতে পারেনি ফ্রান্স। শেষ পর্যন্ত ৪-২ গোলে জয় নিয়ে দ্বিতীয়বারের বিশ্বকাপ জিতে নেয় ফ্রান্স।


শেয়ার করুন :


আরও পড়ুন

কাতার বিশ্বকাপের তারিখ চূড়ান্ত

কাতার বিশ্বকাপের তারিখ চূড়ান্ত

চ্যাম্পিয়ন দল পাবে ৩১৯ কোটি টাকার প্রাইজমানি

চ্যাম্পিয়ন দল পাবে ৩১৯ কোটি টাকার প্রাইজমানি

দেশের সেরা অর্জনেও বেলজিয়ামের আফসোস

দেশের সেরা অর্জনেও বেলজিয়ামের আফসোস

ফাইনালে রেফারির দায়িত্বে আর্জেন্টিনার পিতানা

ফাইনালে রেফারির দায়িত্বে আর্জেন্টিনার পিতানা