সাফ অনূর্ধ্ব-২০ নারী চ্যাম্পিয়নশীপ ২০২৫ এ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করলো বাংলাদেশ। নিষেধাজ্ঞা থেকে ফিরে মোসাম্মৎ সাগরিকার একের পর এক গোলে নেপালকে ৪-০ গোলে হারিয়ে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হলো বাংলাদেশের মেয়েরা। লাল-সবুজের হয়ে চারটি গোলই করেছেন সাগরিকা।
পাঁচ ম্যাচের সবগুলোতে জয় তুলে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে ছিল বাংলাদেশ। ফলে অঘোষিত এই ফাইনাল ম্যাচে অন্তত ড্র করলেও টুর্নামেন্টে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হতো স্বাগতিক দল। তবে লাল কার্ড দেখে নিষেধাজ্ঞা পাওয়া সাগরিকা এ ম্যাচে ফিরে যেন প্রতিশোধ নিলেন। একে একে প্রতিপক্ষ নেপালের জালে চারবার বল পাঠিয়েছেন তিনি।
ম্যাচের আগে উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল এন্ড কলেজে প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহতদের স্মরণে দুই দলের খেলোয়াড়রা এক মিনিটের নীরবতা পালন করেন।
তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে লে ফিরেছিলেন সাগরিকা। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বড় জয়ে হ্যাটট্রিক করেছিলেন সাগরিকা।
দ্বিতীয় ম্যাচে নেপালের বিপক্ষেও তিনি গোল পেয়েছিলন। তবে সেই ম্যাচে নেপালের ডিফেন্ডার সিমরানের সাথে বিতন্ডায় জড়িয়ে লাল কার্ড পান সাগরিকা। আর এর ফলে তিন ম্যাচ তাকে নিষিদ্ধ করা হয়।
ম্যাচের চারটি গোলই করেন সাগরিকা, ছবি-বাফুফে
বসুন্ধরা কিংস এরেনায় রোববার আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ শুরু থেকেই আক্রমণ করে খেলতে থাকে। ৮তম মিনিটে মধ্যমাঠের থ্রু পাস থেকে সাগরিকা নেপালের রক্ষনভাগের মধ্য দিয়ে কোনাকুনি শটে বল জালে জড়ান।
১৫তম মিনিটে সমতা ফেরানোর সহজ সুযোগ নষ্ট করে নেপাল। বাংলাদেশের গোলরক্ষক মিলি আক্তার অনেকটা বাইরে বেরিয়ে আসলে নেপালি ফরোয়ার্ড পূর্নিমা রাইয়ের ভলি পোস্টে লেগে ফেরত আসে। ফিরতি বলও জালে জড়াতে ব্যর্থ হয় নেপাল।
চার মিনিট পর মুনকি আক্তারের শট লাইনের উপর থেকে ক্লিয়ার করেন নেপালের ডিফেন্ডার আনিশা রাই।
বিরতির পরও বাংলাদেশই ম্যাচে আধিপত্য দেখিয়েছে। ম্যাচের ৫২তম মিনিটে বক্সের সামনে নেপালের তিন ডিফেন্ডারের মাঝে বল পান সাগরিকা।
কোন ভুল না করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এই ফরোয়ার্ড। পাঁচ মিনিট পর আসরে নিজের দ্বিতীয় হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন। ৭৬ মিনিটে মুনকির এ্যাসিস্টে নিজের এবং একইসাথে দলের চতুর্থ গোলটিও পেয়ে যান সাগরিকা। দারুণ ফিনিশিংয়ে বাংলাদেশকে বড় জয় উপহার দেন সাগরিকা।