ভালো খেলা উপহার দেয়ার প্রস্তুতি ছিল : বিপলু

স্পোর্টস মেইল২৪ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:০৮ পিএম, ০৪ অক্টোবর ২০১৮
ভালো খেলা উপহার দেয়ার প্রস্তুতি ছিল : বিপলু

জাতীয় দলের হয়ে ৪টি আন্তর্জাতিক ফুটবল ম্যাচে অংশ নিয়েছেন সিলেটের সন্তান বিপলু আহমেদ। তবে ক্যারিয়ারের পঞ্চম ম্যাচটি নিজ জন্মস্থানে হওয়ায় সেটি নিয়ে নিজের মধ্যেই ছিল বাড়তি উচ্ছাস। পরিকল্পনা আগেই ঠিক করে নিয়েছিলেন এই লোকাল হিরো। যেকোন ভাবেই সেরাটা দিতে হবে এবং দলীয় জয়ে ভূমিকা রাখতে হবে। এমন প্রত্যয় নিয়েই নিজ জেলায় এসেছিলেন বিপলু। আত্মবিশ্বাসও ছিল। তবে গোল করার বিষয়ে আগে থেকে কোন চিন্তা মাথায় ছিলনা তার।

সিলেট শহরের সুবিদ বাজারের বনকলা পাড়ায় নিজ বাড়ীতে বসেই বাসসকে দেয়া দেয়া সাক্ষাৎকারে বিপলু বলেন,‘ ভালো খেলার চিন্তা আগেই ছিল এবং আত্ববিশ্বাসও ছিল। কিন্তু গোল দিতে পারবো, সেটা ভাবিনি। যেহেতু আমার নিজের মাঠে খেলা, তাই টেনশনে ছিলাম। ফজরের নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছিলাম যেনো ভাল খেলতে পারি। আর মা’র সঙ্গে ফোনে কথা বলে দোয়া নিয়েছিলাম।

অবশ্য ম্যাচের শুরু থেকেই আমার চেষ্টা ছিল গোল করার। কয়েকবার চেস্টা করেছিলাম। কিন্তু বারবারই ব্যর্থ হচ্ছিলাম। সতীর্থদের বলও বানিয়ে দিয়েছিলাম। কেউ গোল পাচ্ছিল না। রবিউলতো ওয়ান বাই ওয়ান পজিশনে পেয়েও গোল করতে পারেনি। কিন্তু যখন সুযোগটা পেয়েছি তখনই দৌঁড়ে গিয়ে বলটা আউট সুইং করেছিলাম। আর ওটাই কাজে লেগেছে।’

এশিয়ান গেমসে অনুর্ধ ২৩ দলের হয়ে দারুণ দক্ষতা প্রদর্শন করা এই উদীয়মান তারকা বলেন, মাঠে আমার বোঝাপড়াটা সবচেয়ে বেশি সুফিলের সাথে। সে আমার চোখে চোখ রেখে খেলতে পারে। আমাকে রিড করতে পারে। আমিও ওকে রিড করে খেলতে পারি। বল কোথায় ফেলবো সেটা সুফিল সহজেই বুঝে নেয়। আমার সাথে ওর রসায়নটা ভালো হয়। জীবন ভাইয়ের সাথেও বোঝাপড়া আছে। কিন্তু তার সঙ্গে ম্যাচ খেলা হয়েছে কম। ধীরে ধীরে হয়তো তার সঙ্গেও বোঝাপড়াটা হয়ে যাবে।’

নিজের খেলার ধরন সম্পর্কে বিপলু বলেন, ‘আমি রাইট উইংয়ে খেলতেই পছন্দ করি। আর কোচও (জেমি ডে) আমাকে আক্রমনভাগে খেলান। লাওসের বিরুদ্ধে ম্যাচে একবার আমার পজিশন পরিবর্তন করেছিলাম। কোচই আমাকে মিডফিল্ডে খেলতে বলেছিলেন। কিন্তু সেখানে ছন্দ খুঁজে পাইনি। তাই দশ মিনিটের মধ্যে আবারো আমাকে রাইট উইংয়ে উঠিয়ে দেয়া হয়।’

বিপলু জাতীয় দলের হয়ে দেশ কাপালেও তার এই উত্থানে বড় ভুমিকা রয়েছে বড় ভাই বাবলু আহমেদের। তিনিই সার্বক্ষণিকভাবে ছায়ার মত লেগে থাকেন ছোট ভাইয়ের সঙ্গে। তার সুবিধা অসুবিধা দেখভালের পাশাপাশি প্রয়োজন মত উপদেশও দিয়ে থাকেন। লাওসের বিপক্ষে জয় সুচক গোল করার পর জেলা পর্যায়ের জনপ্রিয় এই ফুটবলারকেই অভিবাদন জানানোর জন্যই দৌঁড়ে দক্ষিণ প্রান্তের গ্যালারির দিকে ছুটে এসেছিলেন তার বড় ভাই বাবলু।

বিপলু বলেন, ‘আমার অনুপ্রেরণা বড় ভাই বাবলু। তাকে দেখেই আমার ফুটবলে আসা। পরিবারের সবাই আমরা ফুটবল খেলি। কিন্তু বাবলু ভাই আমাকে সব সময় মাঠে নিয়ে যেতেন। কিভাবে ভালো খেলা যায় সে পরামর্শ দিতেন। প্রতিটি ম্যাচের আগেই তিনি টিম হোটেলে গিয়ে আমাকে সাহস যোগিয়ে থাকেন। লাওসের বিরুদ্ধে ম্যাচের দিন ভোরে হোটেলে এসেছিলেন তিনি। আমাকে সাহস দিয়েছেন। যেহেতু ঘরের মাঠে হাজার হাজার দর্শকের সামনে খেলা, তাই না ঘাবরানোর পরামর্শ দিয়েছিলেন। তার অনুপ্রেরণাতেই আজকে আমি এ পর্যন্ত এসেছি। বাবলু ভাইয়ের ঋণ শোধ করতে পারব না।’

নিজ মাঠে গোল দিয়ে হঠাৎ করেই গণমাধ্যমের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পৌছে গেছেন বিপলু। লাওসের বিপক্ষে ম্যাচের সেরার পুরস্কারটিও পেয়েছেন তিনি। জাতীয় দলে আসার পর এটাই তার প্রথম ম্যাচ সেরার ব্যক্তিগত পুরস্কার। রাতারাতিই হিরো বনে যাওয়া। তবে এতে গা ভাসিয়ে দিতে চান না তিনি।

এ প্রসঙ্গে বিপলুর বিনয়ী মন্তব্য, ‘সবাই বাহবা দিচ্ছে সত্যি। কিন্তু আমি তারকা খ্যাতি নিয়ে ভাবছি না। আমার ভাবনা ভালো খেলা। জাতীয় দলের জার্সি সম্মানের সঙ্গে বুকে জড়িয়ে রাখতে চাই। ক্যারিয়ারটাকে দীর্ঘ করতে চাই।’


শেয়ার করুন :


আরও পড়ুন

দিবালার দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকে জুভেন্টাসের সহজ জয়

দিবালার দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকে জুভেন্টাসের সহজ জয়

নাটকীয় জয় ম্যানসিটি

নাটকীয় জয় ম্যানসিটি

বার্সা থেকে বাদ ম্যালকম

বার্সা থেকে বাদ ম্যালকম

অবসর নিচ্ছেন রুশ নায়ক ইগোর আকিনফিভ

অবসর নিচ্ছেন রুশ নায়ক ইগোর আকিনফিভ