বিপিএলে ফিক্সিং, শাস্তির মুখে ক্রিকেটারসহ ৫ জন

স্পোর্টসমেইল২৪ স্পোর্টসমেইল২৪ প্রকাশিত: ০৭:০৭ পিএম, ০৭ মে ২০২৬
বিপিএলে ফিক্সিং, শাস্তির মুখে ক্রিকেটারসহ ৫ জন

ফিক্সিং ইস্যুতে সর্বশেষ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) এনামুল হক বিজয়-মোসাদ্দেকসহ বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার খেলতে পারেননি। তবে বিপিএলে ফিক্সিং কর্মকাণ্ড বন্ধ ছিল না। দেশের সবচেয়ে বড় ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টে ফিক্সিংয়ে জড়িত থাকার অপরাধে ক্রিকেটারসহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে বিসিবি ইন্টিগ্রিটি ইউনিট।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 

যাদের নামে অভিযোগ পেয়েছে বিসিবি তারা হলেন-

মো. লাবলুর রহমান (টিম ম্যানেজার, চট্টগ্রাম রয়্যালস)

বিপিএলের দ্বাদশ আসরে চট্টগ্রাম রয়্যালসের টিম ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মো. লাবলুর রহমান দুর্নীতি কর্মকাণ্ড সংক্রান্ত তদন্তে সহযোগিতা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে বিসিবি ইন্টিগ্রিটি ইউনিটের দুটি ধারায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

ধারা দুটি হলো-
ধারা ২.৪.৬ -যথাযথ কারণ ছাড়া সম্ভাব্য দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ড সংক্রান্ত তদন্তে সহযোগিতা না করা বা অস্বীকৃতি জানানো, যার মধ্যে ৪.৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, জারি করা ডিমান্ড নোটিশ মানতে ব্যর্থ হওয়াও অন্তর্ভুক্ত।

ধারা ২.৪.৭ -সম্ভাব্য দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডের তদন্তে বাধা দেওয়া বা বিলম্ব ঘটানো, যার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ বা তথ্য গোপন, মুছে ফেলা বা ধ্বংস করাও অন্তর্ভুক্ত।

মো. তৌহিদুল হক তৌহিদ (সহ-মালিক, নোয়াখালী এক্সপ্রেস)

প্রথমবারের মতো বিপিএলে দল কেনা নোয়াখালী এক্সপ্রেসের সহ-মালিক মো. তৌহিদুল হক তৌহিদের বিরুদ্ধেও দুটি ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

ধারা ২.৪.৬ -যথাযথ কারণ ছাড়া কমিটির পরিচালিত তদন্তে সহযোগিতা না করা বা অস্বীকৃতি জানানো, যার মধ্যে ডিমান্ড নোটিশের জবাব না দেওয়াও অন্তর্ভুক্ত।

ধারা ২.৪.৭ -তদন্তে বাঁধা দেওয়া বা বিলম্ব ঘটানো, যার মধ্যে তথ্য ও যোগাযোগ গোপন বা মুছে ফেলার অভিযোগও রয়েছে।

অমিত মজুমদার (ঘরোয়া ক্রিকেটার)

ঘরোয়া ক্রিকেট খেলা অমিত মজুমদারের বিপক্ষে একটি ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
ধারা ২.২.১ -ক্রিকেট ম্যাচের ফল, অগ্রগতি, পরিচালনা বা অন্য কোনো বিষয়ে বাজি ধরা, গ্রহণ করা বা সংশ্লিষ্ট থাকা।

রেজওয়ান কবির সিদ্দিকী (টিম ম্যানেজার)
ধারা ২.২.১ -ক্রিকেট ম্যাচের ফল, অগ্রগতি, পরিচালনা বা অন্য কোনো বিষয়ে বাজি ধরা, গ্রহণ করা বা সংশ্লিষ্ট থাকা।

অভিযোগ আনার সাথে সাথে উপরের চারজনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে অভিযোগপত্র হাতে পাওয়ার পর ১৪ দিনের মধ্যে তারা প্রতিবাদ জানাতে পারবেন।

এছাড়া, ‘এক্সক্লুডেড পারসন পলিসি’ অনুযায়ী সামিনুর রহমানের বিরুদ্ধে বহিষ্কারাদেশ জারি করেছে বিসিবি। বিপিএলের ৯ম, ১০ম এবং ১১তম আসরসহ একাধিক আসরে দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডের তদন্তের পর বিসিবি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে জুয়া-সংক্রান্ত কার্যক্রম, খেলোয়াড় ও এজেন্টদের কাছে দুর্নীতির প্রস্তাব দেওয়া, দেশি-বিদেশি জুয়া ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং ম্যাচে দুর্নীতি সংঘটনে ভূমিকা রাখার অভিযোগ উঠে এসেছে।

এসব অভিযোগে বহিষ্কারাদেশ জারির আগে নোটিশ পাঠানো হলে সামিনুর রহমান তা প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং বহিষ্কারাদেশ মেনে নিয়েছেন বলে জানিয়েছে বিসিবি।



শেয়ার করুন :