চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি-মার্চে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারত যেতে রাজি ছিল না বাংলাদেশ। ভারতের পরিবর্তে শ্রীলঙ্কায় ভেন্যু পরিবর্তনের আবেদন করেছিল। তবে বাংলাদেশের আবেদন না মেনে বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডকে খেলার সুযোগ দেয় আইসিসি।
নির্বাচিত সরকার আসার পর বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের খেলতে পারার বিষয়টি নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের গঠন করা তদন্ত কমিটির রিপোর্টে জানানো হয় যে, ‘একজন ব্যক্তির’ সিদ্ধান্তেই ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে যায়নি বাংলাদেশ। সেই একজন ব্যক্তি হলেন তৎকালিন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে তদন্ত কমিটির রির্পোট প্রকাশের পর ফেসবুকে নিজের অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে অধ্যাপন আসিফ নজরুল জানান, ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ না খেলতে যাওয়ার সিদ্ধান্তটি তখনকার ক্রীড়ামন্ত্রী হিসেবে মূলত আমারই ছিল। একই সাথে এতদিন পর ক্রীড়া মন্ত্রণালয় কর্তৃক বিষয়টি তদন্ত করে কি পেল সেটি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
বিশ্বকাপ নিয়ে আসিফ নজরুলের স্ট্যাটাস নিচে হুবুহু তুলে ধরা হলো-
টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ: কেন ভারতে যাইনি?
ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ না খেলতে যাওয়ার সিদ্ধান্তটি তখনকার ক্রীড়ামন্ত্রী হিসেবে মূলত আমারই ছিল। আমি নিজেই এ কথা একাধিকবার প্রকাশ্যে বলেছি। তাই এতোদিন পর ক্রীড়া মন্ত্রণালয় কর্তৃক বিষয়টি তদন্ত করে তা প্রকাশের কি এমন কারণ ঘটলো বুঝলাম না।
ঘটনার সূত্রপাত উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের চাপের মুখে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের নির্দেশে মুস্তাফিজকে আইপিএল থেকে অপমানজনকভাবে বাদ দেওয়া থেকে। এর পরপরই আমরা নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কা এবং বাংলাদেশের প্রতি অবমাননার প্রতিবাদে ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়ার বিষয়ে অনীহা জানাই।
আমাদের আশঙ্কা যে অমূলক ছিল না, আইসিসির প্রথম রিপোর্টেই তার স্বীকৃতি ছিল। সেখানে ভারতে নিরাপত্তা-আশঙ্কার তিনটি কারণ উল্লেখ করা হয়েছিল—বিশ্বকাপের দলে মুস্তাফিজ থাকলে, বাংলাদেশের সমর্থকরা মুক্তভাবে ঘোরাফেরা করলে এবং বাংলাদেশে নির্বাচন এগিয়ে আসার প্রেক্ষাপটে।
বিবিসি বাংলা ওই রিপোর্টের হুবহু বাংলা অনুবাদও প্রকাশ করেছিল।
এই পরিস্থিতিতে আমরা ভারতে খেলতে যাব কেন?
আমরা শেষ পর্যন্ত অন্য কোনো ভেন্যুতে বিশ্বকাপ খেলার জন্য বহু চেষ্টা করেছি। কোনো কোনো দেশ থেকে সমর্থনও পেয়েছিলাম। কিন্তু সম্ভবত আইসিসির নেতৃত্বে ভারতীয়দের আধিপত্যে থাকার কারণে শেষ পর্যন্ত তা সম্ভব হয়নি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আমাদেরকে ভারতে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও কোনো যোগাযোগ করা হয়নি।
আমাদের সিদ্ধান্তের পেছনে তিনটি বিষয় ছিল অত্যন্ত পরিষ্কার—দেশের মর্যাদা, আমাদের ক্রিকেটার-সাংবাদিক-সমর্থকদের নিরাপত্তা এবং আগামী নির্বাচনের আগে দেশের পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা।
সে সময় বলা হয়েছিল, বিশ্বকাপ না খেললে বিদেশি দলগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের খেলা বন্ধ হয়ে যাবে। আমাদের ক্রিকেট বোর্ডের নানা উদ্যোগে সেই আশঙ্কাও শেষ পর্যন্ত দূর হয়েছিল।
আমি মনে করি, আমরা সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।
একটি ছোট দেশ বলে কেউ আমাদের ইচ্ছেমতো অপমান করবে, আর আমরা সবসময় তা মুখ বুঝে মেনে নিবো এমন প্রত্যাশা করা ঠিক নয়। আমি সমমর্যাদার ভিত্তিতে ভারতের সাথে বন্ধুত্বে বিশ্বাসী । মাথা নত করে সব মেনে নেয়াতে না।
