বিশ্বকাপে হ্যাটট্টিক করেছেন কোন কোন বোলার

স্পোর্টসমেইল২৪ স্পোর্টসমেইল২৪ প্রকাশিত: ০৯:৩৫ এএম, ২৩ এপ্রিল ২০১৯
বিশ্বকাপে হ্যাটট্টিক করেছেন কোন কোন বোলার

ক্রিকেটে একজন বোলারের জন্য সবচেয়ে কঠিন অর্জন হ্যাটট্টিক। অনেকেই বলে থাকেন একজন বোলারের পাঁচ উইকেট সমান একজন ব্যাটসম্যানের সেঞ্চুরি। তবে একজন বোলারের হ্যাটট্টিকের সমান কিছুই হতে পারে না।

বল হাতে পর পর তিন বলে তিন উইকেট পেতে হলে একজন বোলারের একিউরিসি, ধারাবাহিকতা, দক্ষতা এবং ভাগ্যেরও সহায়তা পেতে হয়। যেহেতু হ্যাটট্টিক পাওয়া একটি বড় অর্জন এবং সেটা যদি হয় বিশ্ব আসরে তবে একজন বোলার গর্বের সহিত সেটা তার পরবর্তী প্রজন্মকে বলতে পারে।

৩০ মে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলসে শুরু হতে যাচ্ছে আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপের দ্বাদশ আসর। ১৯৭৫-২০১৫ পর্যন্ত মোট ১১টি বিশ্বকাপে ৯টি হ্যাটট্টিক দেখেছে ক্রিকেট বিশ্ব।

#১ চেতন শর্মা (ভারত) বনাম নিউজিল্যান্ড, নাগপুর ১৯৮৭
সারা জীবন কপিল দেবের ছায়া হয়ে থাকা ভারতীয় পেসার চেতন শর্মা বিশ্বকাপে প্রথম হ্যাটট্টিকের কৃতিত্ব অর্জন করেন।
গ্রুপ পর্বে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে পর পর তিন বলে তিন ব্যাটসম্যান কেন রাদারফোর্ড, ইয়ান স্মিথ এবং এউয়েন চ্যাটফিল্ডকে বোল্ড আউট করে বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম হ্যাটট্টিকের কৃতিত্ব অর্জন করেন।

ক্রিকেটের সব ফর্মেটেই ভারতের প্রথম হ্যাটট্টিক ম্যান চেতন শর্মা।

#২ সাকলাইন মুশতাক (পাকিস্তান) বনাম জিম্বাবুয়ে
এটা হতে পারে কঠিন। তবে টেল অ্যান্ড বিধ্বস্ত করা মূলত একটা শিল্প। সাকলাইন মুশতাক সেটা বলতে পারেন। কেননা হ্যাটট্টিকের মাধ্যমে প্রতিপক্ষের টেল অ্যান্ড ধসিয়ে দিয়েছেন তিনি।

১৯৯৯ সালে লন্ডন বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে হেনরি ওলোঙ্গা, এ্যাডাম হাকল এবং পমি এমবাঙ্গোয়াকে পরপর তিন বলে আউট করে পাকিস্তানের জয় নিশ্চিত করেন।

প্রথম দুই ব্যাটসম্যাকে উইকেটরক্ষক মঈন খানের দক্ষতায় স্টাম্পড করলেও তৃতীয়জনকে এলবিডব্লু’র ফাঁদে ফেলেন সাকলাইন। আউট হওয়া তিনজনের ব্যাটিং সক্ষমতা বিবেচনা করলে এ হ্যাটট্টিক এখনো তার কাছে বিশেষ অনুভূতি।

#৩ চামিন্দা ভাস (শ্রীলঙ্কা) বনাম বাংলাদেশ, পিটারমারিজবার্গ
২০০৩ বিশ্বকাপের দশম ম্যাচ। টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় শ্রীলঙ্কা। বল হাতে আক্রমণে এসে প্রথম তিন বলেই তিন ব্যাটসম্যান হান্নান সরকার, মোহাম্মদ আশরাফুল এবং এহসানুল হক সিজানকে আউট করে ইতিহাসের খাতায় নাম লেখান চামিন্দা ভাস।

ইনিংসের প্রথম তিন বলেই হ্যাটট্টিক করা প্রথম খেলোয়াড় ভাস। শেষ পর্যন্ত সহজেই ১০ উইকেটে ম্যাচ জিতে নেয় শ্রীলঙ্কা।

#৪ ব্রেট লী (অস্ট্রেলিয়া) বনাম কেনিয়া, ডারবান
২০০৩ সালে কেনেডি ওটিয়েনো স্টাম্পড, ব্রিজাল প্যাটেল সেকেন্ড স্লিপে পন্টিংয়ের হাতে ক্যাচ এবং এরপর ডেভিড ওবুয়াকে ইয়র্কারে ঘায়েল করেন ব্রেট লী।

সুপার সিক্স পর্বের ম্যাচটিতে টস জিতে আগে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেয় অস্ট্রেলিয়া। বিশ্বকাপের এ আসরে দ্বিতীয় হ্যাটট্টিক করেন লী। কেনিয়ার ১৭৪ রানের জবাবে ৫ উইকেট হারিয়ে সহজ জয় তুলে নেয় অস্ট্রেলিয়া।

#৫ লাসিথ মালিঙ্গা (শ্রীলঙ্কা) বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা, প্রোভিডেন্স
২০০৭ সালের বিশ্বকাপে সুপার এইট পর্বের ম্যাচে শ্রীলঙ্কার করা ২১০ রানের জবাবে ৫ উইকেটে দক্ষিণ আফ্রিকা ২০৬ রান তুলে সহজ জয়ের পথে ছিল। এমন অবস্থায় বল হাতে লাসিথ মালিঙ্গা রিভার্স স্যুয়িং কাজে লাগিয়ে চার বলে পর পর চার উইকেট শিকার করেন।

মালিঙ্গার ইয়র্কার ও স্লো বলে একে একে ঘায়েল হন শন পোলক, এন্ড্রু হল, জক ক্যালিস এবং মাখায়া এনটিনি। হঠাৎ করেই প্রোটিয়ারা আরেকটি চোকিং মুহূর্তে চলে আসে। কিন্তু রবিন পিটারসন সে অবস্থা থেকে টেনে তুলে দলের জয় নিশ্চিত করেন। তবে মালিঙ্গার দুর্দান্ত স্পেলটি বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বকালের সেরাদের একটি হিসেবে থেকে যাবে।

#৬ কেমার রোচ (ওয়েস্ট ইন্ডিজ) বনাম নেদারল্যান্ডস, দিল্লি
সর্বশেষ ২০১১ সালের বিশ্ব আসরে ‌‘বি’ গ্রুপের ম্যাচে টস হেরে আগে ব্যাটিং করে নেদারল্যান্ডের বিপক্ষে ৩৩০ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। জবাবে এক পর্যায়ে ১১৫ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে ফেলে নেদারল্যান্ড। এমন অবস্থায় পুনরায় আক্রমণে এসে মূল সর্বনাশটা করে দেন কেমার রোচ।

আক্রমণে এসে পর পর তিন বলে পিটার সিলার, বার্নার্ড লুটস এবং বেরেন্ড ওয়েস্টডিককে আউট করেন। ম্যাচে তার বোলিং ফিগার ছিল ৮.৩-০-২৭-৬। প্রথম দুই ব্যাটসম্যান এলবিডব্লুর শিকার হন। শেষ বলটি ইয়র্কার মারলে বুঝতেই পারেননি ব্যাটসম্যান।

#৭ লাসিথ মালিঙ্গা (শ্রীলঙ্কা) বনাম কেনিয়া, কলম্বো
বিশ্বকাপ ইতিহাসে দু’টি হ্যাটট্টিক করা একমাত্র বোলার শ্রীলঙ্কার লাসিথ মালিঙ্গা। ২০১১ বিশ্বকাপে ‘এ’ গ্রুপে কেনিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে পিটার অনগোন্ডো, শেন এনগোচে এবং এলিনা ওটেইনোকে আউট করে হ্যাটট্টিক পূর্ণ করেন মালিঙ্গা। মূলত মালিঙ্গার ইয়র্কার বুঝতেই পারেননি কেনিয়ান ব্যাটসম্যানরা।

অনগোন্ডো এলবিডব্লু এবং এনগোচে ও ওটেয়েনো সরাসরি বোল্ড আউট হওয়া ম্যাচে লঙ্কানরা ১৪২ রানে জয় পায়। ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হওয়া মালিঙ্গার বোলিং ফিগার ছিল ৭.৪-০-৩৮-৬।

#৮ স্টিভেন ফিন (ইংল্যান্ড) বনাম অস্ট্রেলিয়া, মেলবোর্ন
২০১৫ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের প্রথম ম্যাচে স্টিভেন ফিনের বোলিং পারফরমেন্স হয়তোবা খুব আহামরি ছিল না। তবে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের প্রথম এবং একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে হ্যাটট্টিক করেছেন।

টস জিতে ইংল্যান্ড আগে বোলিং বেছে নিলে অস্ট্রেলিয়া নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে ৩৪২ রানের বিশাল স্কোর দাঁড় করায়। খুব সাদামাটা বোলিং করে প্রথমে ৭১ রানে ২ উইকেট শিকার ফিনের। অসি ব্যাটিংয়ের সামনে হ্যাটট্টিক করবেন এটা হয়তোবা স্বপ্নেও ভাবেননি ফিন। কিন্তু নিজের শেষ ওভারে ব্র্যাড হাডিন, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল এবং মিচেল জনসনকে আউট করে হ্যাটট্টিক পূর্ন করেন।

#৯ জেপি ডুমিনি (দক্ষিণ আফ্রিকা) বনাম শ্রীলঙ্কা, সিডনি
২০১৫ বিশ্বকাপে নক আউট পর্বে হ্যাটট্টিক করা একমাত্র বোলার দক্ষিণ আফ্রিকার জেপি ডুমিনি। ২০১৫ বিশ্বকাপ কোয়ার্টারফাইনালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হ্যাটট্টিক করেন দক্ষিণ আফ্রিকার এ অলাউন্ডার।

১১৪ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বেশ ভালো অবস্থানে ছিল শ্রীলঙ্কা। এ সময় এ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ ও কুমার সাঙ্গাকারা বেশ ধৈর্য্যশীলভাবে ব্যাটিং করছিলেন। এমন অবস্থায় তিন বলে একে একে ম্যাথুজ, নুয়ান কুলাসেকারা এবং থারিন্ডু কৌশলকে হারিয়ে হ্যাটট্টিক পূর্ণ করে দক্ষিণ আফ্রিকাকে প্রথমবারের মত নক আউট পর্বে জয় এনে দেন ডুমিনি।


শেয়ার করুন :


আরও পড়ুন

বিশ্বকাপের যে রেকর্ডগুলো ভাঙার নয়

বিশ্বকাপের যে রেকর্ডগুলো ভাঙার নয়

কেমন ছিল ১৯৭৫-২০১৫ বিশ্বকাপগুলো

কেমন ছিল ১৯৭৫-২০১৫ বিশ্বকাপগুলো

বিশ্বকাপে খেলবে খুলনার ৭ ক্রিকেটার

বিশ্বকাপে খেলবে খুলনার ৭ ক্রিকেটার

দুর্দান্ত ক্রিকেটার হয়েও বিশ্বকাপ খেলননি তারা

দুর্দান্ত ক্রিকেটার হয়েও বিশ্বকাপ খেলননি তারা