৩২৮ রানে হারলো বাংলাদেশ

স্পোর্টসমেইল২৪ স্পোর্টসমেইল২৪ প্রকাশিত: ০২:০১ পিএম, ২৫ মার্চ ২০২৪
৩২৮ রানে হারলো বাংলাদেশ

সিলেট টেস্টে হার তৃতীয় দিন শেষেই নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। তবুও যেন ব্যবধান কমানোর চেষ্টা। মমিনুল হক ও মেহেদী হাসান মিরাজের ব্যাটে সেই আশাতেই ছিল বাংলাদেশ। মিরাজ চলে যাওয়ার পর মমিনুলের চেয়ে দেখা ছাড়া আর কিছুই করা ছিল না। ক্যারিয়ারের ১৭তম ফিফটি সেঞ্চুরির দিকে টেনে নেওয়ার পথে পেলেন না সঙ্গী। খালি হাতে নাহিদ রানা আউট হলে বাংলাদেশের ইনিংস থামে ১৮২ রানে। ৫১১ রানের টার্গেট দিয়ে ৩২৮ রানের তুলে নেয় শ্রীলঙ্কা। ৮৭ রানে অপরাজিত ছিলেন মমিনুল হক।

শ্রীলঙ্কার করা ২৮০ রানের বিপরীতের প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ করেছিল ১৮৮ রান। ৯২ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে শ্রীলঙ্কা ৪১৮ রান করলে জয়ের জন্য বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ৫১১। এ ম্যাচ জিততে হলে টেস্ট ইতিহাসে নতুন রেকর্ড গড়তে হতো টাইগারদের। সেখানে ১৮২ রানে গুটিয়ে যাওয়ায় লঙ্কানদের বিপক্ষে ৩২৮ রানের হারের লজ্জা পেল বাংলাদেশ।

এ নিয়ে সপ্তমবার ৩শর বেশি রানের ব্যবধানে টেস্ট ম্যাচে হারলো বাংলাদেশ। রান বিবেচনায় শ্রীলঙ্কা কাছে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যবধানে হার। অন্যদিকে, নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে রান বিবেচনায় এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যবধানে জয় শ্রীলঙ্কার। প্রথমটিও বাংলাদেশের বিপক্ষে, ৪৬৫ রানে।

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শ্রীলঙ্কার ছুঁড়ে দেওয়া টার্গেটে খেলতে নেমে তৃতীয় দ্বিতীয় দিন শেষে ৫ উইকেটে ৪৭ রান করেছিল বাংলাদেশ। মমিনুল হক ৭ ও তাইজুল ইসলাম ৬ রানে অপরাজিত ছিলেন। জয়ের জন্য ৩ উইকেট হাতে নিয়ে আরও ৩৮২ রান করতে হতো টাইগারদের। সোমবার চতুর্থ দিনের তৃতীয় ওভারেই শ্রীলঙ্কান পেসার কাসুন রাজিথার শিকার হয়ে ৬ রানেই থেমে যান তাইজুল। দলীয় ৫১ রানে ষষ্ঠ উইকেট পতনের পর ক্রিজে মমিনুলের সঙ্গী হন মেহেদি হাসান মিরাজ।

দ্রুত গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় পড়া বাংলাদেশকে লজ্জার হাত থেকে রক্ষা করতে শ্রীলঙ্কার বোলারদের সামনে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন মোমিনুল ও মিরাজ। তাদের লড়াইয়ে দলীয় ১শ রান স্পর্শ করে টাইগাররা। দলীয় ১১৭ রানে সপ্তম ব্যাটার হিসেবে রাজিথার বলে আউট হন ৬টি চারে ৩৩ রান করা মিরাজ। মমিনুলের সাথে সপ্তম উইকেটে ৬৬ রান যোগ করেন মিরাজ।

এরপর শরিফুল ইসলামকে নিয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারের ১৭তম হাফ-সেঞ্চুরির দেখা পান মোমিনুল। মিরাজের মত শরিফুলের সাথে হাফ-সেঞ্চুরির জুটি গড়ার পথে ছিলেন তিনি। তবে সেটি হতে দেননি রাজিথা। ধৈর্য্যশীল ব্যাটিংয়ের মাধ্যমে ১২ রান করা শরিফুলকে শিকার করেন তিনি। শরিফুলের বিদায়ে ক্রিজে আসা নতুন ব্যাটার খালেদ আহমেদকে পরের ডেলিভারিতে আউট করে ইনিংসে ৫ শিকার পূর্ণ করেন রাজিথা।

১৬৪ রানে যখন বাংলাদেশের যখন নবম উইকেট পতন হয়, তখন ৬৯ রানে ব্যাট করছিলেন মমিনুল। শেষ ব্যাটার নাহিদ রানাকে নিয়ে শ্রীলঙ্কার বোলারদের উপর চড়াও হন মমিনুল। স্পিনার প্রবাথ জয়সুরিয়ার করা ৪৭তম ওভারের শেষ তিন বলে ২টি চার ও ১টি ছক্কা মেরে ৯০এর ঘরের কাছাকাছি পৌঁছে যান মমিনুল।

৫০তম ওভারের দ্বিতীয় বলে রানাকে শিকার করে বাংলাদেশের ইনিংস ১৮২ রানে থামিয়ে দেন পেসার লাহিরু কুমারা। সেঞ্চুরি থেকে ১৩ রান দূরে থেকে মাঠ ছাড়েন মমিনুল। ১২টি চার ও ১টি ছক্কায় ১৪৮ বলে ৮৭ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। শ্রীলঙ্কার রাজিথা ৫৬ রানে ৫ উইকেট নিয়ে ক্যারিয়ার সেরা বোলিং করেন। এছাড়া বিশ্ব ফার্নান্দো ৩টি ও কুমারা ২টি উইকেট নেন।

এ হারে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলে সপ্তমস্থানে নেমে গেল বাংলাদেশ। ৩ ম্যাচে ১ জয় ও ২ হারে ৩৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ পয়েন্ট আছে টাইগারদের। টেবিলে বাংলাদেশের মতো একই অবস্থা থাকলেও ষষ্ঠস্থানে উঠলো শ্রীলঙ্কা।



শেয়ার করুন :