দেশীয় ফুটবলের সম্ভাবনাময় প্রতিভা খুঁজতে যশোরের ঐতিহ্যবাহী শামস-উল-হুদা ফুটবল একাডেমিতে শুরু হয়েছে নতুন খেলোয়াড় ভর্তির কার্যক্রম। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ১৯ ও ২০ ডিসেম্বর দুই দিনব্যাপী এই ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রথম দিন প্রায় ২০০০ তরুণ ফুটবলার অংশগ্রহণ করেছে।
এ কার্যক্রমের প্রথম দিনে শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) সকাল থেকে যশোর শহর থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার পূর্বে হামিদপুর গ্রামে অবস্থিত একাডেমির মাঠে শুরু হয় বাছাই কার্যক্রম।
প্রথম দিন সারাদেশ থেকে আগত তরুণ প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের নিয়ে প্রাথমিক বাছাই অনুষ্ঠিত হয়। আর শনিবার যশোর জেলার স্থানীয় তরুণ ফুটবলারদের জন্য আলাদা ট্রায়াল নেওয়া হবে।
একাডেমি সূত্র জানায়, এবারের ভর্তি পরীক্ষায় শুক্রবারে সারাদেশ থেকে প্রায় ২০০০ তরুণ ফুটবলার অংশগ্রহণ করেছেন। অশগ্রহণকারীদের বয়সসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ থেকে ১৮ বছর। প্রথম ধাপে সকল খেলোয়াড়কে ছোট ছোট গ্রুপে ভাগ করে সংক্ষিপ্ত সময়ের ম্যাচের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হয়। এই ধাপ শেষে প্রায় ৫০০ থেকে ৭০০ জন খেলোয়াড়কে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত করা হবে।
পরবর্তী ধাপে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিতদের মধ্য থেকে আরও বাছাই করে প্রায় ১০০ থেকে ১২০ জন খেলোয়াড়কে সাত দিনের জন্য একাডেমিতে আবাসিক ক্যাম্পে রাখা হবে। এই ক্যাম্প চলাকালীন ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত ২০ থেকে ৩০ জন খেলোয়াড়কে একাডেমির স্থায়ী প্রশিক্ষণের জন্য চূড়ান্ত করা হবে।
একাডেমিতে বর্তমানে একজন হেড কোচের নেতৃত্বে চারজন স্থায়ী কোচ দায়িত্ব পালন করছেন। ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত গেস্ট কোচসহ মোট ১২ থেকে ১৫ জন কোচের একটি টিম খেলোয়াড় বাছাই কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছেন।
শামস-উল-হুদা ফুটবল একাডেমির এক কর্মকর্তা জানান, চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত খেলোয়াড়দের জন্য একাডেমিতে থাকা, খাওয়া ও আধুনিক প্রশিক্ষণের পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা রয়েছে। প্রায় ৬৫ বিঘা জমির ওপর গড়ে ওঠা এই একাডেমিতে আন্তর্জাতিক মানের তিনটি ফুটবল মাঠ রয়েছে এবং আরও একটি মাঠ নির্মাণাধীন। পাশাপাশি ছয় তলা মাল্টিপারপাস ভবনে একসঙ্গে প্রায় ২৪০ জন খেলোয়াড়ের আবাসন সুবিধা রয়েছে।
গত বছর যশোরের এই অ্যাকাডেমিতে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন প্রায় ১৪৬৫ জন খেলোয়াড়। তাদের মধ্য থেকে নির্বাচিত খেলোয়াড়রা বর্তমানে একাডেমিতে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন এবং অনেকেই ইতোমধ্যে অনূর্ধ্ব-১৭ ও অনূর্ধ্ব-১৯ জাতীয় দলে প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
তৃণমূল থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় তুলে এনে জাতীয় দল ও পেশাদার ক্লাবে খেলার উপযোগী করে তোলাই শামস-উল-হুদা ফুটবল একাডেমি প্রধান উদ্দেশ্য।
