প্রথমবারের মতো ৪৮ দলের অংশগ্রহণে ফুটবল বিশ্বকাপ শেষ করলেও বিপদেই পড়েছে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। বেসরকারি বিনিয়োগের অংশীদারিত্ব বিক্রির ব্যর্থ পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর পুনর্নির্বাচনের প্রার্থিতা থেকে প্রকাশ্যে সমর্থন প্রত্যাহার করে নিয়েছে ওয়েলস।
পুরুষ ও নারী বিশ্বকাপসহ ফিফার বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বেসরকারি বিনিয়োগের প্রস্তাবে সমর্থন দিলে সংস্থাটির ২১১টি সদস্য অ্যাসোসিয়েশনকে প্রত্যেককে ৪ কোটি ডলার দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন ইনফান্তিনো। তবে তিনটি মহাদেশীয় কনফেডারেশনের তীব্র প্রতিবাদের মুখে শেষ পর্যন্ত পরিকল্পনাটি বাতিল করতে বাধ্য হন।
সোমবার ওয়েলস ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএডব্লিউ) জানিয়েছে, ২০২৭ সালের মার্চে মরক্কোর রাবাতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তারা ইনফান্তিনোর প্রার্থিতাকে সমর্থন করবে না।
এক বিবৃতিতে এফএডব্লিউ বলেছে, “২০২৭-২০৩১ মেয়াদে ফিফা সভাপতি হিসেবে পুনর্নির্বাচনের জন্য জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর প্রার্থিতার প্রতি আমাদের সমর্থন প্রত্যাহারের বিষয়টি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন অব ওয়েলস নিশ্চিত করছে।”
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “সুশাসন, প্রক্রিয়া, নেতৃত্ব, মূল্যবোধ, অংশীজনদের সঙ্গে সম্পর্ক ব্যবস্থাপনা, যোগাযোগ এবং সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক ব্যর্থতাগুলো আমাদের এমন অবস্থানে নিয়ে এসেছে, যেখানে বিশ্ব ফুটবলের নেতৃত্বে থাকার জন্য ইনফান্তিনোর ওপর এফএডব্লিউয়ের আর আস্থা নেই। ফুটবলের সর্বোত্তম স্বার্থকে সবার আগে রাখতে ব্যর্থ হওয়া এমন একটি ব্যর্থতা, যা আমরা মেনে নিতে পারি না।”
এদিকে, ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনও ফিফাকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছে যে, তারা আর ইনফান্তিনোকে সমর্থন করছে না। ইংলিশ ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি শনিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল, তারা উয়েফার অবস্থানকে ‘পুরোপুরি সমর্থন’ করে। উয়েফা বলেছিল, ইনফান্তিনোর ওপর ইউরোপীয় ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির আস্থা আর নেই।
উত্তর ও মধ্য আমেরিকার ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনকাকাফ ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে সমগ্র বিষয়টি ব্যাপকভাবে পর্যালোচনা করার আহ্বান জানিয়েছে। অন্যদিকে, এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) পুরো বিষয়টিতে স্বচ্ছতার দাবি জানিয়েছে।
