ব্যাটিং ব্যর্থতায় অস্ট্রেলিয়াকে ১৩২ রানের লক্ষ্য দিয়ে হারের স্বাদ পেল বাংলাদেশ। চট্টগ্রামে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ৪ উইকেটে জয় তুলে নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া।
টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে ১৯ ওভারে ১৩১ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। জবাবে ৬ উইকেটে ১৩৩ রান তুলে ১০ বল বাকি থাকতে জয়ের স্বাদ পায় অস্ট্রেলিয়া।
বুধবার (১৭ জুন) চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। প্রথম ১৭ বলে ২৬ রান তুলে ভালো শুরুর ইঙ্গিত দেন টাইগার দুই ওপেনার সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান।
তবে তৃতীয় ওভারে অস্ট্রেলিয়ার পেসার স্পেনসার জনসনের পঞ্চম বলে জেভিয়ার কার্টলেটকে ক্যাচ দেন তানজিদ। ১টি চারে ৯ বলে ১০ রান করেন তিনি।
দলীয় ২৬ রানে তানজিদ ফেরার পর বেশিক্ষন টিকতে পারেননি সাইফও। অস্ট্রেলিয়ার অফ স্পিনার ম্যাট রেনশর বলে মিড অফে মিচেল মার্শের হাতে ধরা পড়েন ৩টি চারে ১৪ বলে ২০ রান করা সাইফ।
এরপর বাংলাদেশের মিডল অর্ডার ব্যাটারদের বড় ইনিংস খেলতে দেননি অস্ট্রেলিয়ার দুই স্পিনার এডাম জাম্পা ও জোয়েল ডেভিস। সৌম্য সরকারকে ১৭ রানে এবং অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয়কে ৮ রানে বিদায় দেন জাম্পা।
সমান ১০ রান করে তুলে ডেভিসের শিকার হন পারভেজ হোসেন ইমন ও অভিষিক্ত আব্দুল গাফফার সাকলাইন।
পরের দিকে শামিম হোসেন ১, রিশাদ হোসেন ৩ এবং শরিফুল ইসলাম ৭ রানে থামলে ১০৮ রানে নবম উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
শেষ উইকেটে মাহেদি হাসান ও মুস্তাফিজুর রহমানের প্রতিরোধে সম্মানজনক সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ। দু’জনের ১২ বলে ২৩ রানের জুটির সুবাদে ১৯ ওভারে ১৩১ রানে অলআউট হয় টাইগাররা।
৪টি চারে ২২ বলে ২৯ রানে অপরাজিত থাকেন মাহেদি। ৭ রান করেন মোস্তাফিজ। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে বল হাতে জাম্পা ও ডেভিস ৩টি করে উইকেট নেন।
জবাব দিতে নেমে তৃতীয় ওভারে উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। ওপেনার জশ ইংলিশকে ৫ রানে বোল্ড করেন পেসার শরিফুল। তিন নম্বরে নামা কুপার কনোলিকে নিয়ে জুটি গড়ার চেষ্টা করেন অধিনায়ক মিচেল মার্শ।
মারমুখী ব্যাটিংয়ে ১৬ বলে ২৫ রান যোগ করে বিচ্ছিন্ন হন তারা। ১৩ রান করা মার্শকে শিকার করেন পেসার মোস্তাফিজুর রহমান।
অধিনায়ককে হারালেও মারমুখী ব্যাটিং অব্যাহত রাখেন ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচে সেঞ্চুরি হাঁকানো কনোলি। ৪টি চার ও ৩টি ছক্কায় ২৭ বলে ৪৭ রান তুলে বাংলাদেশ পেসার সাকলাইনের প্রথম শিকার হন তিনি। তৃতীয় উইকেটে টিম ডেভিডের সাথে ২৮ বলে ৪০ রান যোগ করেন কনোলি।
এরপর সতীর্থদের সাথে তিন জুটিতে ৫১ রান তুলে অস্ট্রেলিয়ার জয়ের পথ সহজ করেন রেনশ। এরমাঝে ডেভিড ২০, রেনশ ও অভিষিক্ত নিখিল চৌধুরি সমান ১৮ রান করে আউট হলেও, জয় পেতে সমস্যা হয়নি অস্ট্রেলিয়ার। ডেভিস ৭ ও বার্টলেট ৪ রানে অপরাজিত থাকেন।
বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে ৩২ রানে ২ উইকেট নেন সাকলাইন। ১টি করে উইকেট শিকার করেন শরিফুল-মুস্তাফিজ-মাহেদি ও রিশাদ।
