চট্টগ্রামকে উড়িয়ে দিয়ে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে বরিশাল

স্পোর্টসমেইল২৪ স্পোর্টসমেইল২৪ প্রকাশিত: ০৪:৩১ পিএম, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
চট্টগ্রামকে উড়িয়ে দিয়ে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে বরিশাল

কাইল মায়ার্স ও তামিম ইকবালের জোড়া ফিফটিতে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) এলিমিনেটর ম্যাচে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সকে উড়িয়ে দিয়ে কোয়ালিফায়ারে পা রাখলো ফরচুন বরিশাল। ৩১ বল বাকি থাকতেই চট্টগ্রামকে ৭ উইকেটে হারিয়ে দিয়েছে তামিম ইকবালরা।

সোমবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) টস হেরে প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৩৫ রানের সংগ্রহ গড়ে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। জবাবে কাইল মায়ার্স ও তামিম ইকবালের জোড়া ফিফটিতে জয় তুলে নেয় বরিশাল।

এ জয়ে তৃতীয় দল হিসেবে কোয়ালিয়াফার নিশ্চিত করলো শিরোপা প্রত্যাশী ফরচুন বরিশাল। অন্যদিকে, এলিমিনেটর ম্যাচে হেরে বিপিএলের চলমান আসর থেকে বিদায় নিলো চট্টগ্রাম।

মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এলিমিনেটর ম্যাচে বরিশালের বিপক্ষে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে দ্বিতীয় ওভারেই উইকেট হারায় চট্টগ্রাম। আগের ম্যাচে সেঞ্চুরি করা তানজিদ তামিমকে ২ রানে বিদায় দেন বরিশালের পেসার মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন।

সতীর্থকে হারালেও চট্টগ্রামের রানের চাকা ঘুড়িয়েছেন ওপেনার ব্রাউন। পঞ্চম ওভারে আবারও ধাক্কা খায় চট্টগ্রাম। ৭ রান করে বরিশালের পেসার ওয়েস্ট ইন্ডিজের ওবেড ম্যাককয়ের বলে আউট হন তিন নম্বরে নামা ইমরানউজ্জামান।

৩১ রানে ২ উইকেট হারালেও, ব্রাউনের ব্যাটে চট্টগ্রামের দলীয় রান ৫০ স্পর্শ করে। তবে সপ্তম ওভারের শেষ বলে ম্যাককয়ের দ্বিতীয় শিকার হন ২টি চার ও ৩টি ছক্কায় ২২ বলে ৩৪ রান করা ব্রাউন।

দলীয় ৫২ রানে ব্রাউনের বিদায়ের পর চট্টগ্রামের মিডল অর্ডার ব্যাটাররা ব্যর্থ হন। ১টি করে চার-ছক্কায় নিউজিল্যান্ডের টম ব্রুস ১১ বলে ১৭ এবং সৈকত আলি ১১ রানে আউট হন।

৮৪ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে চট্টগ্রাম। ষষ্ঠ উইকেট ১৯ বলে ২৬ রান যোগ করে চট্টগ্রামের রান তিন অংক পার করেন অধিনায়ক শুভাগত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের রোমারিও শেফার্ড। ১৫তম ওভারে শুভাগতকে শিকার করে বরিশালকে ব্রেক-থ্রু এনে দেন ক্যারিবীয়ান মিডিয়াম পেসার কাইল মায়ার্স। ৪টি চারে ১৬ বলে ২৪ রান করেন শুভাগত।

১৭তম ওভারের প্রথম বলে ইংল্যান্ডের পেসার জেমস ফুলারের বলে শেফার্ড ১১ রানে সাজঘরে ফিরলে, চট্টগ্রামের চ্যালেঞ্জিং স্কোরের সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ৯ উইকেটে ১৩৫ রান করে চট্টগ্রাম। বরিশালের মায়ার্স-সাইফুদ্দিন ২৮ রানে এবং ম্যাককয় ২৯ রানে ২টি করে উইকেট নেন।

১৩৬ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে ইনিংসের তৃতীয় বলে চট্টগ্রামের স্পিনার শুভাগতর বলে খালি হাতে বিদায় নেন বরিশালের ওপেনার সৌম্য সরকার।

শুরুতে সতীর্থকে হারালেও সেটিকে চাপ মনে করেননি আরেক ওপেনার তামিম ইকবাল ও তিন নম্বরে নামা মায়ার্স। পাওয়ার প্লের সুবিধা নিয়ে চট্টগ্রাম বোলারদের উপর তান্ডব চালিয়ে ৬ ওভারে ৭৩ রান তোলেন তামিম ও মায়ার্স। এরমধ্যে শুভাগতর করা পঞ্চম ওভারে ৩টি ছক্কা ও ২টি চারে ২৬ রান নেন মায়ার্স।

নবম ওভারে হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ২৫ বল খেলা মায়ার্স। পরের ওভারে দলের রান ১শ পৌঁছে দিয়ে ওমানের পেসার বিলাল খানের বলে সাজঘরে ফিরেন ৩টি বাউন্ডারি ও ৫টি ওভার বাউন্ডারিতে ২৬ বলে ৫০ রান করা মায়ার্স। দ্বিতীয় উইকেটে তামিমের সাথে ৫৪ বলে ৯৮ রান যোগ করেন ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হওয়া মায়ার্স।

মায়ার্স ফেরার পর দক্ষিণ আফ্রিকার ডেভিড মিলারকে নিয়ে বরিশালের ২২ বলে ২৫ রান যোগ করে বরিশালকে জয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দেন তামিম। ২টি চারে ১৩ বলে ১৭ রান করে আউট হন এবারের আসরে প্রথম ম্যাচ খেলতে নামা মিলার।

এরপর মুশফিকুর রহিমকে নিয়ে বাকি ১১ রান যোগ করে বরিশালের জয় নিশ্চিত করেন তামিম। এবারের আসরে তৃতীয় হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ নিয়ে ৯টি চারে ৪৩ বলে ৫২ রানে অপরাজিত থাকেন তামিম। ৬ রানে অপরাজিত থাকেন মুশফিক।

চট্টগ্রামের শুভাগত-বিলাল ও শেফার্ড ১টি করে উইকেট নেন।



শেয়ার করুন :