ব্যাপক বাস্তুচ্যুতি, অপুষ্টি, মানসিক ট্রমা ও অব্যাহত সহিংসতার মধ্যে দিন কাটছে যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার শিশুরা। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড় হামজা চৌধুরী মানবিক সঙ্কটে বিপর্যস্ত গাজার শিশুদের জন্য দেড় কোটি টাকার বেশি অর্থ সংগ্রহ করেছেন।
নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে হামজা বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, আমরা গাজার শিশুদের জন্য ১ লাখ পাউন্ডের (প্রায় ১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা) বেশি তহবিল সংগ্রহ করতে পেরেছি।”
যুক্তরাজ্যের লন্ডনভিত্তিক নুজুম স্পোর্টস একটি কমিউনিটিভিত্তিক ক্রীড়া সংগঠন ও কমিউনিটি ইন্টারেস্ট কোম্পানি। বিশ্বজুড়ে মুসলিম ক্রীড়াবিদদের সহায়তা ও ক্ষমতায়নে কাজ করে প্রতিষ্ঠানটি। গাজার শিশুদের জন্য অর্থ সংগ্রহে সহায়তা করায় নুজুম স্পোর্টসকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন হামজা।
ইংল্যান্ডে জন্ম নেওয়া পেশাদার ফুটবলার হামজা ইংলিশ ফুটবল লিগ চ্যাম্পিয়নশিপের ক্লাব শেফিল্ড ইউনাইটেডের হয়ে খেলেন। মূলত ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার কিংবা রাইট-ব্যাক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ইংল্যান্ডের বয়সভিত্তিক দলে খেলা এই ফুটবলার এখন বাংলাদেশ জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করছেন।
ইংল্যান্ডের অনূর্ধ্ব-২১ দলের হয়ে খেলা হামজা ২০২৪ সালের শেষ দিকে বাংলাদেশের পাসপোর্ট পাওয়ার পর বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নেন। খেলাধুলার পাশাপাশি বিভিন্ন দাতব্য কর্মকাণ্ডেও অংশ নেন তিনি।
লন্ডনের ওই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ সফল করতে উপস্থিত হওয়া, অনুদান দেওয়া, সহযোগিতা করা ও অবদান রাখার জন্য সবার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান হামজা।
তিনি বলেন, “বিশেষ ধন্যবাদ নুজুম স্পোর্টসকে। এই আয়োজনের মাধ্যমে আমার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে তারা যে অসংখ্য ঘণ্টা সময় দিয়েছে এবং নিরলস পরিশ্রম করেছে, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ।”
হামজা জানান, সংগৃহীত অর্থ গাজার শিশুদের জরুরি সহায়তায় মাঠপর্যায়ে কাজ করা ‘চিলড্রেন নট নাম্বার্স’-এর কার্যক্রমে ব্যয় করা হবে। ইসরায়েলি হামলায় বিধ্বস্ত গাজার শিশুদের জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা দিচ্ছে সংগঠনটি।
হামজা বলেন, “এই শিশুদের অনেকেরই বেঁচে থাকার একমাত্র আশা হলো চিকিৎসার জন্য অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া। যেসব শিশুর জরুরিভিত্তিতে চিকিৎসার জন্য স্থানান্তর প্রয়োজন, তাদের সেই ব্যবস্থা করতেই সংগৃহীত অর্থের পুরোটা ব্যয় করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “খুব অল্প সময়ের মধ্যে এই আয়োজনের মাধ্যমে আমরা যা অর্জন করতে পেরেছি, তাতে আমি বিনীত ও কৃতজ্ঞ। তবে এত মানুষের অসীম দুর্ভোগের তুলনায় আমাদের এই অবদান খুবই সামান্য। এখনো অনেক কিছু করার বাকি। তবে প্রতিটি প্রচেষ্টা, তা যত ছোটই হোক না কেন, পরিবর্তন আনতে পারে।”
শেষে হামজা প্রার্থনা করেন, আল্লাহ যেন তাদের এই প্রচেষ্টা কবুল করেন। ফিলিস্তিনে তাদের ভাই-বোনদের কষ্ট লাঘব করেন, তাদের শক্তি ও ধৈর্য দান করেন এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করেন।
