সাফের ফাইনালে মালদ্বীপ ও ভারত

স্পোর্টস মেইল২৪ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:৫০ পিএম, ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮
সাফের ফাইনালে মালদ্বীপ ও ভারত

ঢাকায় অনুষ্ঠিত সাফ সুজুকি কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে ফাইনালে উঠেছে মালদ্বীপ ও ভারত। বুধবার দিনের প্রথম খেলায় বিকেল ৪টায় নেপালকে ৩-০ গোলে পরাজিত করে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে মালদ্বীপ। এছাড়া দিনের দ্বিতীয় খেলায় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার ম্যাচে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে ফাইনালে ওঠেছে ভারত।

সাফে কখনোই নেপালের কাছে হারের রেকর্ড নেই মালদ্বীপের। এর আগে ছয়বারের লড়াইয়ে চারবার জয় পেয়েছে দ্বীপ দেশটি। আর দুই ম্যাচ ছিল ড্র। আজও সেই ধারা অক্ষুণ্ন রেখে পঞ্চমবারের মতো সাফ ফুটবল আসরে নেপালকে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিলো মালদ্বীপ।

সর্বশেষ ২০০৯ সালে সাফ চ্যাম্পিয়নশীপের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে জায়গা পেলেও সেবার ট্রফি জেতা হয়নি মালদ্বীপের । ভারতের কাছে হারতে হয়েছিল তাদের। ঢাকায় অনুষ্ঠিত ঐ ফাইনালে টাইব্রেকার শুট আউটে ৩-১ গোলে হারে তারা। এবারও ফাইনালে প্রতিপক্ষ হিসেবে ভারতকেই পেয়েছে মালদ্বীপ।

গ্রুপ পর্ব থেকে ভাগ্যের সহায়তায় শেষ চারে আসা মালদ্বীপ আজ খেলায় এগিয়ে যায় ম্যাচের ৯ মিনিটেই। গোলের নায়ক অধিনায়ক আকরাম আব্দুল ঘানি। বক্সের ঠিক বাইরে থেকে বাঁ পায়ে বুদ্ধিদীপ্ত ফ্রি-কিক নেন। নেপালি ডিফেন্ডার সুমন আরিয়াল বল প্রতিহত করতে গিয়েও পারেননি। তার দু’পায়ের মাঝ দিয়ে বল জালে প্রবেশ করে (১-০)।

কিছু সময় পর শুরু হয অঝোরে বৃষ্টি। ২৬ মিনিট পর্যন্ত ম্যাচ চলার পর ম্যাচ কমিশনার চেং লিয়ান চেং বজ্রপাত বিরতি দেন। দীর্ঘ ৩৪ মিনিটের বিরতির পর ফের মাঠে গড়ায় ম্যাচটি। ম্যাচের ৩৭ মিনিটে হতাশ হতে হয় নেপালকে। দারুণ একটি আক্রমণ রচনা করেও অধিনায়ক ভরত খাওয়াজের নেয়া শটটি খুঁজে পায়নি জালের ঠিকানা।

দ্বিথীয়ার্ধে নেপাল গোল পরিশোধ করতে না পারলেও ম্যাচ শেষ হওয়ার ৬ মিনিট আগে গোলের গ্রাফটা ঠিকই উপরে নিয়ে যায় মালদ্বীপ। গোল করেন ইব্রাহিম হাসান। ডানদিক থেকে বদলি হিসেবে মাঠে নামা আসাদুল্লাহর মাইনাস নেপালের ডিফেন্ডার দিনেশ ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হলে বক্সে দাঁড়ানো ইব্রাহিমের পায়ের সামনে এসে যায় বল। ঠান্ডা মাথার জোড়ালো শটে নিশানা ভেদ করেন এ ফরোয়ার্ড(২-০)। দুই মিনিট পর মালদ্বীপের হয়ে তৃতীয় ও ব্যাক্তিগত দ্বিতীয় গোলটি করেন ইব্রাহিম (৩-০)।

দিনের দ্বিতীয় ও শেষ সেমিফাইনালে মানবীর সিংয়ের জোড়া গোলে বড় জয় পায় ভারত। দলের বাকি গোলটি করেছেন ভারতের আরেক ফরোয়ার্ড সুমিত পাসি। পাকিস্তানের হয়ে ব্যবধান ঘোঁচানো একমাত্র গোলটি করেন হাসান বশির। এ নিয়ে এগারো বারের মতো ফাইনাল খেলার ছাড়পত্র পেল ভারত। শুধুমাত্র ২০০৩ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত আসরের সেমি ফাইনাল থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল ভারতীয়দের।

প্রথমার্ধে গোলল শূন্য ড্র নিয়েই বিরতীতে যায় দুই দল। তবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই আক্রমণ শানিত করে ভারত। এ অর্ধে যথারীতি ক্লান্ত হয়ে পড়ে পাকিস্তানের খেলোয়াড়রা। সুযোগটি কাজে লাগিয়ে তিনটি গোল আদায় করে নেয় ভারতীয়রা। ম্যাচের ৪৮তম মিনিটে পরিশ্রমের সুফল ঘরে তুলে মানবীরর সিং। আশিক কুরুনিয়ানের ক্রসের বলে ডান পায়ের শট দিয়ে গোল করেন তিনি (১-০)।

৬৯তম মিনিটে বিনিত রায়ের বাড়িয়ে দেয়া বল থেকে চমৎকার কৌনিক শটে গোল করে ভারতকে দ্বিগুণ ব্যবধানে পৌঁছে দেন মানবীর (২-০)। ম্যাচে এটি ছিল তার দ্বিতীয় গোল। এরপর ৮৪তম মিনিটে সুমিত পাশির গোলে নিরাপদ অবস্থানে পৌঁছে যায় ভারত। ডান প্রান্ত দিয়ে আশিকের ক্রসের বল ডি বক্সে দর্শণীয় হেডের সাহায্যে জালে জড়িয়ে দেন সুমিত (৩-০)।

এর পরপরই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে। ৮৬তম মিনিটের সময় হাতাহাতিতে লিপ্ত হন পাকিস্তানি ফরোয়ার্ড মহসিন হোসেন এবং বদলি হিসেবে মাঠে নামা ভারতীয় ডিফেন্ডার লালিয়ানজুয়ালা চাংতে। ফলে দুইজনকেই লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ ছাড়া করেন কর্তব্যরত থাইল্যান্ডের রেফারি সিভাকরন পু-উদম।

এর দুই মিনিট পর একটি গোল পরিশোধ করতে সক্ষম হয় পাকিস্তান। ৮৮তম মিনিটে হাসান বশিরের কাছ থেকে বল পেয়ে ডি বক্সের বাইরে থেকেই শট নেন পাকিস্তানি ফরোয়ার্ড মোহাম্মদ আলী। বলটি ভারতের গোল রক্ষক বিশালকে ফাঁকি দিয়ে জালে আশ্রয় নেয় (৩-১)। ফলে ভারতের কাছে ৩-১ গোলের পরাজয় নিয়ে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয় পাকিস্তান।


শেয়ার করুন :


আরও পড়ুন

ক্ষমা চেয়ে ভুলের ব্যাখ্যা দিয়েছেন সোহেল

ক্ষমা চেয়ে ভুলের ব্যাখ্যা দিয়েছেন সোহেল

দেশের হার মানতে না পারায় বোতলবৃষ্টি!

দেশের হার মানতে না পারায় বোতলবৃষ্টি!

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটে সম্প্রচার হবে সাফ ফুটবলের খেলা

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটে সম্প্রচার হবে সাফ ফুটবলের খেলা

আফগানিস্তান প্রিমিয়ার লিগে একই দলে তামিম-মুশফিক

আফগানিস্তান প্রিমিয়ার লিগে একই দলে তামিম-মুশফিক