অপ্রতিরোধ্য পাবনার জোড়গাছা বিদ্যালয়, টানা দ্বিতীয় সাফল্যে রহস্য শুধু প্র্যাকটিস

শাহীন রহমান শাহীন রহমান প্রকাশিত: ০৭:০৪ পিএম, ২২ জুন ২০২৬
অপ্রতিরোধ্য পাবনার জোড়গাছা বিদ্যালয়, টানা দ্বিতীয় সাফল্যে রহস্য শুধু প্র্যাকটিস

টানা দ্বিতীয়বারের মতো প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের বালিকা বিভাগে জাতীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার জোড়গাছা ইউনাইটেড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

শনিবার (২১ জুন) বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলায় ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার আচারগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ৪-২ গোলে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে বিদ্যালয়টি।

জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত আসরে টানা দ্বিতীয়বারের মতো সাফল্য অর্জন করায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সাঁথিয়া উপজেলাসহ পুরো পাবনাবাসী উচ্ছসিত। আনন্দের জোয়ার বইছে সবার মাঝে। প্রশংসায় ভাসছে স্কুলটির খেলোয়াড়রা।

ম্যাচটি গ্যালারিতে বসে পুরোটা সময় উপভোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। খেলা শেষে প্রধান অতিথি হিসেবে খুদে ফুটবলারদের হাতে ট্রফি ও মেডেল তুলে দেন তিনি।

টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়ার নির্বাচিত হয়েছে জোড়গাছা ইউনাইটেড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দলের খেলোয়ার মারিয়া খাতুন।

দলের এমন সাফল্যের পেছনে রহস্য জানতে চাইলে ১২০ নং জোড়গাছা ইউনাইটেড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম বলেন, আমাদের দু’জন কোচ আলমিনা খাতুন ও জাহাঙ্গীর আলম নিরলস কঠোর পরিশ্রম করেছেন। তারা কখনও কোনো পারশ্রমিক নেননি, এমনকি গাড়ি ভাড়াটাও নেননি। আর আমি ছোটবেলা থেকেই খেলা প্রিয় মানুষ। যে কারণে দুই কোচকে নিয়ে আমার টিমটাকে সেভাবে প্রস্তুত করেছি।

তিনি আরও বলেন, আমাদের এই বালিকা টিমটা সর্বশেষ ২০২৪ সালের প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টেও চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। এবার আমরা টানা দুইবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করলাম। আগামীবারও চ্যাম্পিয়ন হয়ে হ্যাটট্টিক করতে চাই।
sportsmail24

প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম বলেন, এই সাফল্যের পেছনে চারজন মানুষের অকৃত্রিম সহযোগিতা রয়েছে। তারা হলেন- পাবনা-০১ আসনের সাংসদ ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী সাইয়েদ আব্দুল্লাহ, কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক মাসুদুল হক মাসুদ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিজু তামান্না। তারা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নভাবে উৎসাহ ও আর্থিক সহযোগিতা করেছেন।

কোচ আলমিনা খাতুন বলেন, আমরা একসাথে থেকেছি, নিয়মিত প্র্যাকটিস করেছি, ক্যাম্পিং করেছি। যে পরিশ্রমের ফসল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছি। আসলে আমাদের লক্ষ্যই ছিল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার। সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে পেরে নিজে খুব খুশি ও গর্বিত।

দলের অন্য কোচ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এটা নকআউট টুর্নামেন্ট। একবার হারলেই শেষ। আমরা ধাপে ধাপে সব বাধা পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত ফাইনালে জিতে চূড়ান্ত সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি। এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। খুবই খুশি আমরা। আমরা সবাই একসাথে পরিশ্রম করেছি, সেই পরিশ্রম স্বার্থক হয়েছে।

প্রতিক্রিয়ায় দলের অধিনায়ক জোড়গাছা ইউনাইটেড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী ফাতেমা খাতুন মিথিলা বলেন, স্যাররা আমাদের অনেক প্র্যাকটিস করিয়েছে, কোচিং করিয়েছে, এ জন্য আমরা সফলতা পেয়েছি। আমরা অনেক খুশি। বাবা-মা, পাড়া-প্রতিবেশি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী সবাই খুশি। আমরা এর আগেও একবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছি। আশা করছি আগামীবারও চ্যাম্পিয়ন হবো।

টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়ার একই স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী মারিয়া খাতুন বলেন, সেরা খেলোয়াড় হতে পেরে খুব খুশি। তবে দল চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, এটাই সবচেয়ে বড় কথা। ভবিষ্যতে আমি ভালো ফুটবল খেলোয়াড় হতে চাই। একদিন জাতীয় দলে খেলার স্বপ্ন দেখি। সবাই দোয়া করবেন।

গত ৬ এপ্রিল শুরু হয়ে প্রায় আড়াই মাস ধরে সারাদেশের ৬৫ হাজার ৩৪২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ১১ লাখের বেশি ছাত্র এবং ১১ লাখের বেশি ছাত্রী এ ফুটবল প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। তারা গ্রাম থেকে শুরু করে ধারাবাহিকভাবে ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা, বিভাগ হয়ে ঢাকায় চূড়ান্ত পর্যায়ে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের (বালক-বালিকা) বিভাগে ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে।



শেয়ার করুন :