× Advertisement

কোচ কথা না বললে দলে তার প্রয়োজন কী : মাশরাফি

স্পোর্টসমেইল২৪ স্পোর্টসমেইল২৪ প্রকাশিত: ০৩:০৭ এএম, ২৭ অক্টোবর ২০২১
কোচ কথা না বললে দলে তার প্রয়োজন কী : মাশরাফি

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সুপার টুয়েলভে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ১৭১ রানের সংগ্রহ গড়েও শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে গেছে বাংলাদেশ। খেলায় প্রথম দশ ওভার নিজেদের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও দুটি ক্যাচ মিস এবং বোলিংয়ে অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের কিছু সিদ্ধান্তে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে বাংলাদেশ। ফলে বড় সংগ্রহের শ্রীলঙ্কার কাছে হারের স্বাদ পেয়েছে টাইগাররা।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হেরে যাওয়া ওই ম্যাচ নিয়ে মাঠে খেলার বাইরেও টাইগারদের প্রধান কোচ রাসেল ডোমিঙ্গোকে নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা।

ফেসবুকে নিজের অ্যাকাউন্টে দীর্ঘ এক স্ট্যাটাসে ওই ম্যাচ নিয়ে কথা বলেছেন মাশরাফি। নীচে তা তুলে ধরা হলো-

ম্যাচের একদিন পার হয়ে গেল কত কথা শুনলাম যার অনেক কিছুরই যুক্তি আছে কারণ দল হেরে গেলে মানুষ তার প্রতিক্রিয়া নিজের মতো করে দিবে এটা স্বাভাবিক। আমার মনেও অনেক কিছুই এসেছে তবে দুটা জিনিস খুব বেশি মনে হচ্ছে। ম্যাচটা হারার জন্য কি শুধুই রিয়াদ আর লিটনই দায়ী, আর কোন বিষয় কি নাই। আমার যে বিষয়টি মনে হয়েছে সেটা হলো-

১. ম্যাচের ৯.৪ ওভার ৭৯ রানে ওদের ৪উইকেট ঠিক তখন আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী ড্রিংক্স ব্রেক তার মানে কোচ মাঠের ভিতর আসবে। আমাদের কোচ ও এসেছিল তাহলে উনি এসে রিয়াদের সাথে কী কথা বলেছিল। যদি বলে থাকে তাহলে কী সব দায় রিয়াদের? মানলাম অন ফিল্ড ক্যাপ্টেন কল ইজ ফাইনাল তবে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের ক্রান্চ মোমেন্টে কী কোচ ডিক্সাশন করে না। কারণ, ক্যাপ্টেন তখন বিভিন্ন বিষয়ে চাপে থাকে। তার প্লান কী এটা কি জানতে চেয়েছিল কোচ, আর যদি কথা হয়ে থাকে তাহলে কী কোচের প্রেস হ্যান্ডেল করা উচিত ছিল কি-না।

কারণ রিয়াদের ভুলটা ধরা হয়েছে ঠিক ঐ সময় থেকেই। কারণ ১১ নাম্বার ওভার করে মেহেদী দলের মূল বোলার, ১২ নাম্বার ওভার করে রিয়াদ সম্ভবতো ৫/৬ রান দেয় ১৩ নাম্বার ওভার করে আফিফ যে ওভারে ১৫ রান হয় কিন্তু রিয়াদ যে চিন্তা থেকে আফিফকে বলে এনেছিল সেটাতেও কিন্তু সুযোগ তৈরি হয়েছিল। যদি সুযোগ হাতছাড়া না হতো তাহলে আমরা বলতাম দারুণ ক্যাপ্টেনসি।

ক্যাচ মিসের অযুহাত না দিলেও এটাই সত্য ক্যাচ মিস এই প্রথম হয়নি আর লিটন দলের সেরা ফিল্ডার দের একজন। কোন কোন সময় ভাগ্যটাও সাথে থাকতে হয়। তাহলে স্রেফ দল সফল না হওয়ার কারণে এই দুজনকে এতোটা তুলোধুনো করা কতোটা ঠিক আমি শিওর না। আর ঠিক এ কারণেই আমার মনে হয়েছে, যদি কোচ এ বিষয়ে রিয়াদের সাথে কথা না বলে থাকে তাহলে তো ব্রেকের সময় দলের টিম বয়কেই মাঠে পাঠিয়ে দেওয়া যায় হায়-হ্যালো করতে। কোচের আর প্রয়োজন কী।

২. ম্যাচের আগে উইকেট এ্যাসেস শুধু ক্যাপ্টেন করে না পুরো টিম ম্যানেজমেন্ট সাথে থাকে তাহলে টিম করার সময় চিন্তা করেছে উইকেট স্লো হবে যার কারণে তাসকিন কে বসিয়ে নাসুমকে খেলানো। কিন্তু নাসুমকে পাওয়ার প্লের পর বোলিং করানো হলো না, কারণ দু’জন বাহাতি ব্যাটসম্যান ইউকেটে তাহলে আগেই চিন্তা করা উচিত ছিল শ্রীলঙ্কার টপ ওর্ডারে বাহাতি ব্যাটসম্যান বেশি তার উপর মাঠের একপাশে মাত্র ৫৬ গজ।

যখন নাসুমকে নেওয়া হয়েছে তাহলে ব্রেকের সময় কোচ রিয়াদকে কী বলেছে যে, নাসুম দলের মূল বোলার ওকে ব্যাক করো।কারণ ঐ নাসুমই ব্রেকটা পরে দিয়েছে ততোক্ষণে ম্যাচ প্রায় শেষ। তাহলে ঐ সময় কোচ কী বসে বসে কোন প্ল্যান না করে শুধু খেলা দেখেছে। আবারও বলছি সিদ্ধান্ত রিয়াদ নিবে কিন্তু ওকে তো হেল্প করতে হবে। কারণ মাঠে ক্যাপ্টেন কখনও কখনও অসহায় হয়ে পড়ে। আর ঠিক তখনই টিম ম্যানেজমেন্ট কে টেকওফ করতে হয়। অন্যান্য দলে তো তাই দেখি।

৩. আরও অনেক বিষয় আছে বলা যায়, তবে লিটন ক্যাচ মিসের কোন এক্সকিউজ দিবো না। এমনকি লিটন নিজেও দিবে না ।তবে ক্যাচ মিস খেলার একটা অংশই। কিন্তু ফিল্ডিং কোচের কাছে কি এ বিষয়গুলো নিয়ে জানতে চাওয়া হয়। ক্যাচ মিস কি এই প্রথম হলো।

২০১৯ বিশ্বকাপের পর ম্যানেজমেন্টের প্রায় সবাই চাকরি হারিয়েছে স্রেফ বর্তমান ফিল্ডিং কোচ ছাড়া। তাহলে আমরা বিশ্বকাপে বা তারপর কী সেরা ফিল্ডিং সাইড হয়ে গিয়েছি। এখন টিম ম্যানেজমেন্ট দেখলে মনে হয় একটা রিহ্যাব সেন্টার যেখানে সাউথ আফ্রিকার সব চাকরি না পাওয়া কোচগুলো একসাথে আমাদের রিহ্যাব সেন্টারে চাকরি করছে। এদের বাদ দেওয়া আরও বিপদ কারণ চুক্তির পুরো টাকাটা নিয়ে চলে যাবে।

তাহলে দাঁড়ালো কী তারা যতোদিন থাকবে আর মন যা চাইবে তাই করবে। হেড কোচ এক এক করে নিজ দেশের সবাইকে আনছে এরপর যারা অস্থায়ী ভাবে আছে তাদেরও সরাবে আর নিজের মতো করে ম্যানেজমেন্ট সাজাবে। তাও মেনে নিলাম কিন্তু রাসেল (হেড কোচ) ম্যানেজমেন্ট এর জন্য যেভাবে স্টেপআপ করে মূল দলের জন্য তাহলে লুকিয়ে কেন। কেন তামিম, মুশফিক, রিয়াদ ভালো থাকে না। এটা ঠিক করা কি তার কাজ না।

তারপরও দায় খেলোয়ারদের কেই নিতে হয়/হবে। এটাই স্বাভাবিক, কারণ মাঠে তারাই খেলে কিন্তু একটা বিষয় পরিষ্কার যে খেলোয়ারদের কে সে রকম পরিবেশ করে দিতে হবে। তাদের কে বুঝাতে হবে তাদের বিপদে কেউ পাশে না থাকুক অন্ততো টিম ম্যানেজমেন্ট থাকবে।

আমি আমার ক্যাপ্টেনসির শেষ প্রেস কনফারেন্সে বলেছিলাম এই দলের কোচ যেই হোক না কেন এখন এই দলের রেজাল্ট করার সময় এ্যাক্সপেরিমেন্টের না। কোচের চাহিদা মেটানোর আগে আমাদের দেশের স্বার্থ আগে দেখতে হবে। কারণ ক্রিকেট দেশের মানুষের কাছে এখন শ্রেফ খেলা নাই, রিতিমতো আবেগে পরিণত হয়েছে।

ভালো করুক আমার প্রিয় দল।
আল্লাহ সহায় হোন আমাদের।

স্পোর্টসমেইল২৪/আরএস

[sportsmail24.com এখন sportsmail.com.bd ঠিকানাতেও। খেলাধুলার ভিডিও-ছবি এবং  সর্বশেষ সংবাদ পড়তে ব্রাউজ করুন যেকোন ঠিকানায়। এছাড়া অ্যান্ড্রয়েড মোবাইলে ইনস্ট্রল করে নিতে আমাদের অ্যাপস ]


শেয়ার করুন :


আরও পড়ুন

মাশরাফিকে দেখে কলকাতা নেতাদের শিক্ষা নেওয়ার আর্জি

মাশরাফিকে দেখে কলকাতা নেতাদের শিক্ষা নেওয়ার আর্জি

যা কিছুই হোক টিমের পাশেই আছি : মাশরাফি

যা কিছুই হোক টিমের পাশেই আছি : মাশরাফি

কোচ নিয়ে প্রশ্ন তুললেন মাশরাফি

কোচ নিয়ে প্রশ্ন তুললেন মাশরাফি

বিশ্বকাপের আগে তাসকিনের ‘বোলিং গুরু’ মাশরাফি

বিশ্বকাপের আগে তাসকিনের ‘বোলিং গুরু’ মাশরাফি