পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত দিয়ে শুরু হয়েছিল কাতার বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। সুর, সংস্কৃতি আর ব্যতিক্রমী উপস্থাপনায় সেই আয়োজন মুগ্ধ করেছিল গোটা বিশ্বকে।
মাসকট প্রদর্শনী থেকে শুরু করে বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতির বর্ণিল উপস্থাপন -সব মিলিয়ে ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হয়ে উঠেছিল স্মরণীয়। তবে এবার প্রশ্ন উঠেছে, ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান কি সেই মান ছুঁতে পেরেছে? নাকি ছাড়িয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে?
প্রায় ৮৭ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ৪৮ দল নিয়ে মাঠে গড়ানো ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের পর্দা উঠেছে মেক্সিকোর মাটিতে।
এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের উদ্বোধনী আয়োজনের সাক্ষী হলো ডিয়েগো ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’-এর স্মৃতিবিজড়িত এই স্টেডিয়াম।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পরিবেশিত হয় বিশ্বকাপের অফিসিয়াল গান ‘Dai Dai’। বিশ্বকাপ আর শাকিরা -এই জুটিকে যেন আলাদা করাই যায় না। আরও একবার নাচ-গানে সমর্থকদের মাতিয়ে তোলেন বিশ্বখ্যাত এই শিল্পী। তার সঙ্গে মঞ্চে ছিলেন আরও অনেক আন্তর্জাতিক তারকা।
এছাড়া বিশ্বখ্যাত শিল্পীদের পাশাপাশি পারফর্ম করেছেন মেক্সিকোর স্থানীয় শিল্পীরাও। দেশটির ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও ইতিহাসের নানা অনুষঙ্গ তুলে ধরা হয় বর্ণিল পরিবেশনায়। যেখানে আয়োজনে ছিল স্বাগতিক দেশের নিজস্ব পরিচয়ের স্পষ্ট ছাপ।
তবে এতসব আয়োজনের পরও প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে -ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে কতটা উন্মাদনা ছড়াতে পেরেছে মেক্সিকোর এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠান?
অনেক দর্শক ইতিমধ্যেই তুলনা টানছেন ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের উদ্বোধনীর সঙ্গে। তাদের অনেকের কাছেই কাতারের আয়োজন এখনো সেরার আসন ধরে রেখেছে।
কাতার বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় কে-পপ তারকা Jungkook-এর পারফরম্যান্স ছিল অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। তিনি মঞ্চে পরিবেশন করেছিলেন বিশ্বকাপের অফিসিয়াল গান Dreamers, যা বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর হৃদয় ছুঁয়ে যায়।
কাতার বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের একটি দৃশ্য, ছবি- সংগৃহীত
চার বছর পরও সেই গান ও সেই আয়োজন অনেকের মনে একই রকম আবেগ জাগিয়ে তোলে। তাই বিতর্কটা থেকেই যাচ্ছে—আড়ম্বর, তারকাবহুল উপস্থিতি আর প্রযুক্তির ঝলকানিতে ২০২৬ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান নিঃসন্দেহে দৃষ্টিনন্দন।
তবে দর্শকদের হৃদয়ে স্থায়ী ছাপ ফেলার দিক থেকে কাতার বিশ্বকাপের উদ্বোধনী আয়োজনকে কি সত্যিই ছাড়িয়ে যেতে পেরেছে? উত্তরটা হয়তো সময়ই বলে দেবে।

মোশারফ হোসাইন